মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে অবৈধ অস্ত্র প্রবেশ করছে বলে তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী সীমান্তের নানা পয়েন্টে অন্তত সাতটি পথে চোরাচালান হচ্ছে। এ কাজে অন্তত পাঁচটি সংগঠন জড়িত আছে এবং প্রতিটি চক্রেই কক্সবাজারের রোহিঙ্গা এলাকাসহ সীমান্তবর্তী জনগোষ্ঠীর সদস্যরা নামজড়ানো—যা স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনীকে উদ্বিগ্ন করেছে। এসব অস্ত্র কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো এবং তিন পার্বত্য জেলায় সক্রিয় সশস্ত্র গ্রুপের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে বলে পুলিশ ও বিজিবি সূত্র উল্লেখ করেছে।
সাম্প্রতিক ঘটনার মধ্যে ৫ অক্টোবর সকালে উখিয়ার পালংখালী এলাকায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ দুইটি অগ্নেয়াস্ত্র, পাঁচটি কার্তুজ ও দুই হাজার পিস ইয়াবাসহ পাঁচ মাদক ব্যবসায়ী আটক করে। র্যাব ও বিজিবি বিভিন্ন অভিযানে গত কয়েক মাসে বিপুল পরিমাণ দেশি ও বিদেশি অস্ত্র জব্দ করেছে; র্যাব-১৫ বলছে গত দেড় বছরে তাদের অভিযানে ১,২৭৯টি অস্ত্র ও ১৬৩ জন অস্ত্রধারী আটক হয়েছেন। এই জব্দ-রেকর্ড সীমান্ত-পার করে চলমান অস্ত্রপ্রবাহের প্রকৃত পরিধিকে আংশিকই হলেও চিত্রায়িত করেছে।
তদন্ত থেকে জানা গেছে, অস্ত্রের বড় অংশের উৎপত্তি মিয়ানমারের রাখাইন (আরাকান) অঞ্চল—সেখানে অনিয়মিত লড়াই ও নিরাপত্তা শূন্যতার সুযোগে সরকারি বাহিনীর জঙ্গি ঘাঁটি থেকে অস্ত্র লুট হওয়া কিংবা স্থানীয় সশস্ত্রদলের মাধ্যমে অস্ত্র সংগ্রহ হয়ে পাচার হচ্ছে। পাচারকারীরা নাইক্ষ্যংছড়ি, উখিয়া ও হোয়াইকং এলাকা, নাফ নদীসহ ভাঙাচোরা পথগুলো ব্যবহার করে এসব অস্ত্র সিল গিয়েছে বলে সীমান্ত সূত্র বলছে।
আরও
নিরাপত্তা বাহিনী সতর্ক করে বলেছে, সীমান্তপথগুলো দুর্গম হওয়ায় অপরাধী চক্র সহজেই লুকিয়ে থাকতে পারে এবং স্থানীয় কিছু নৃগোষ্ঠীর—আবহাওয়া-ভিত্তিক—সহযোগিতাও পাচারকে জটিল করে তুলছে। ফলে বিজিবি, পুলিশ ও র্যাব সীমান্ত নজরদারি বাড়িয়েছে এবং সহযোগী দক্ষতা জোরদার করছে; তবু সীমান্তে নিরাপত্তা ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
আইনি ও নীতি পর্যায়ে এই সমস্যার সমাধানকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা সংশ্লিষ্টরা যাচাই-নিরীক্ষায় উল্লেখ করেছেন। তারা মনে করান, সীমান্তে কড়া তত্ত্বাবধান, অঞ্চলের জনগোষ্ঠীর সাথে সমন্বয়, সীমান্তপারতি অর্থ ব্যবস্থা বন্ধ করা ও আন্তঃসংস্থাগত গোয়েন্দা সহযোগিতার মাধ্যমে চাইনিচালান রোধে কাজ না হলে অবৈধ অস্ত্র প্রবাহ ও সশস্ত্র সহিংসতার ঝুঁকি বাড়তেই থাকবে।











