দেশে বসবাসকারীদের পাশাপাশি প্রবাসীদেরও ই-পাসপোর্টের আওতায় আনতে উদ্যোগ জোরদার করেছে পাসপোর্ট অধিদফতর। ইতোমধ্যে বিশ্বের ১৪৪টি দেশে প্রবাসীদের ই-পাসপোর্ট সেবা কার্যক্রম শুরু হয়েছে ৬৫টি বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে। সর্বশেষ মরক্কোয় বাংলাদেশ দূতাবাসে এই কার্যক্রম চালু করা হয়েছে, যা উদ্বোধন করেন পাসপোর্ট অধিদফতরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল নূরুল আনোয়ার।
অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় ১৩ লাখ ৮৫ হাজার প্রবাসীকে ই-পাসপোর্টের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। মহাপরিচালক জানান, ধাপে ধাপে বিশ্বের সব বাংলাদেশ দূতাবাসেই এই সেবা চালু করা হবে। এরই মধ্যে সৌদি আরব, মালয়েশিয়া, কুয়েতসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো এবং ইউরোপে প্রায় ১৪ লাখ প্রবাসী ই-পাসপোর্ট গ্রহণ করেছেন। শিগগিরই বিশ্বের প্রতিটি প্রবাসী বাংলাদেশি এই সুযোগ পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের ২২ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ই-পাসপোর্ট কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশই প্রথম দেশ যারা এ সেবা চালু করে। প্রথমদিকে কেবল রাজধানীর তিনটি কার্যালয় থেকে ই-পাসপোর্ট দেওয়া হলেও এখন তা দেশের সব আঞ্চলিক কার্যালয়ে চালু হয়েছে। পাশাপাশি যেখানে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক প্রবাসী অবস্থান করেন, সেইসব দেশেও দূতাবাসের মাধ্যমে এ সেবা চালু হয়েছে।
আরও
ই-পাসপোর্টকে বলা হচ্ছে আধুনিক ও নিরাপদ ভ্রমণ নথি। প্রচলিত এমআরপি পাসপোর্টের তুলনায় এটি অনেক বেশি প্রযুক্তিনির্ভর ও নিরাপদ। এতে একটি চিপের ভেতরে পাসপোর্টধারীর ছবি, আঙুলের ছাপ ও চোখের আইরিশ সংরক্ষিত থাকে। ফলে যাত্রীর তথ্য সহজেই যাচাই করা যায়। একই সঙ্গে বিমানবন্দরের ই-গেট ব্যবহারের মাধ্যমে যাত্রীরা এক মিনিটেরও কম সময়ে নিজেই ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেন।
ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইতোমধ্যে তিনটি ই-গেট চালু হয়েছে। শিগগিরই চট্টগ্রাম ও সিলেট আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন স্থলবন্দরে আরও ৫০টি ই-গেট স্থাপন করা হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সুবিধা ভ্রমণকারীদের সময় সাশ্রয় ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাংলাদেশকে প্রযুক্তিগতভাবে আরও একধাপ এগিয়ে নিলো।











