নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর হয়ে যুদ্ধ করতে গিয়ে নিহত হয়েছেন এক বাংলাদেশি যুবক। গত শুক্রবার রাতে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ার কারাক জেলায় সেনাবাহিনীর অভিযানে নিহত ১৭ টিটিপি সদস্যের মধ্যে ছিলেন মাদারীপুরের ছোট দুধখালী গ্রামের ফয়সাল হোসেন মোড়ল। রোববার এ তথ্য জানাজানি হলে পরিবারে নেমে আসে শোকের ছায়া।

পরিবারের দাবি, দুবাইয়ে চাকরির উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়লেও ফয়সাল গোপনে পাকিস্তানে চলে যান এবং সেখানে টিটিপির হয়ে সক্রিয় হন। অভিযানে নিহত হওয়ার পর পাকিস্তানি সেনারা তার সঙ্গে থাকা পোশাক, টাকা, আইডি কার্ডসহ কিছু নথি উদ্ধার করে। পরবর্তীতে স্থানীয় গণমাধ্যমে নিহতদের ছবি প্রকাশিত হলে তা দেখে ফয়সালের পরিচয় নিশ্চিত হয় তার পরিবার।
আরও
ফয়সালের বয়স ছিল মাত্র ২১ বছর। ঢাকায় থাকার সময় তিনি মসজিদের সামনে আতর বিক্রি করতেন। পরিবার ও প্রতিবেশীরা কেউই জানতেন না, দুবাই নয়, পাকিস্তানেই তার গন্তব্য হবে। নিহতের বাবা আব্দুল আউয়াল মোড়ল পল্লি বিদ্যুৎ অফিসে কর্মরত, বড় ভাই দারাজে ডেলিভারিম্যান এবং মা চায়না বেগম গৃহিণী। আদরের সন্তানের মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
চায়না বেগম অভিযোগ করে বলেন, তার ছেলে প্রতারণার শিকার হয়ে এমন পরিণতির মুখে পড়েছেন। তিনি এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। ফয়সালের চাচা আব্দুল হালিমও দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানিয়েছেন। স্থানীয়রা বলছেন, ঢাকায় একটি চক্রের মাধ্যমে ফয়সাল পাকিস্তানে যায় এবং জঙ্গি সংগঠনে যোগ দেয়।
মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জানিয়েছেন, পরিবার চাইলে নিহত যুবকের মরদেহ দেশে আনার ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি তিনি জঙ্গিবাদ ঠেকাতে পরিবার ও সমাজের সবাইকে আরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।











