বাংলাদেশের সঙ্গে একটি বিশেষায়িত প্রতিরক্ষা চুক্তি করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে জাপান। চলতি বছরের মধ্যেই এ চুক্তি সইয়ের উদ্যোগ চলছে বলে কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে। চুক্তি কার্যকর হলে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহ, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও যৌথ গবেষণার মাধ্যমে দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নতুন মাত্রা পাবে।
গত মে মাসে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস টোকিও সফরে গিয়ে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিগেরু ইশিবার সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। এর ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ ও জাপান নীতিগতভাবে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ও সমরাস্ত্র বিনিময় সংক্রান্ত একটি চুক্তিতে সম্মত হয়েছে বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
জাপানের প্রতিরক্ষা নীতির আলোকে প্রস্তাবিত চুক্তিতে তিনটি মূল বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে—প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম হস্তান্তর (যেমন নৌ টহলযান, নজরদারি প্রযুক্তি, অপ্রাণঘাতী সরঞ্জাম), যৌথ গবেষণা (সাইবার নিরাপত্তা, স্যাটেলাইট ও উপকূলীয় নজরদারি) এবং কঠোর নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা, যাতে সরবরাহকৃত সমরাস্ত্র তৃতীয় দেশে হস্তান্তর না হয়। বিশ্লেষকদের মতে, এসব উদ্যোগ বাংলাদেশকে সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও সাইবার প্রতিরক্ষায় আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ করে দেবে।
আরও
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, চুক্তিটি ইতিবাচক হলেও এর ভূরাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া থাকতে পারে। বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে চীনের কাছ থেকে সমরাস্ত্র সংগ্রহ করে আসছে। জাপানের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক জোরদার হলে চীন কিছুটা অস্বস্তি বোধ করতে পারে। তাই বড় শক্তিগুলোর মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই হবে ঢাকার প্রধান চ্যালেঞ্জ।
সব মিলিয়ে কূটনীতিক ও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, বাংলাদেশ–জাপান প্রতিরক্ষা চুক্তি দেশের সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি কৌশলগত সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। তবে আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে ভারসাম্য রক্ষার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।









