কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলার সীমান্তবর্তী পশ্চিম শিংঝাড় এলাকায় এক কিশোরীকে ঘিরে চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, ১৬ বছরের ওই তরুণীর ঘরে এক রাত এক দিন অবস্থান করার পর ৫৭ বছরের প্রবাসী আকরামুল হক রানুকে আটক করা হয়। পরে ঘটনাটি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও নেতাদের উপস্থিতিতে সাড়ে তিন লাখ টাকায় মীমাংসা করা হলেও ভুক্তভোগী পরিবার পেয়েছে মাত্র এক লাখ ২০ হাজার টাকা। বাকি অর্থ ভাগাভাগি হয়েছে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে।
পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, মাতবর ও নেতাদের কাছে বেশিরভাগ অর্থ চলে গেছে। অভিযোগ অস্বীকার না করে সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তিই টাকা ভাগের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তবে তাদের দাবি, মেয়ের পরিবারকে দুই লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নাগেশ্বরী উপজেলার রায়গঞ্জ এলাকার প্রবাসী রানু দীর্ঘদিন দুবাইতে ছিলেন। এর আগে তিনি দুটি বিয়ে করেন এবং একটি মামলা চলমান রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, তার মাদক সেবনের অভ্যাস রয়েছে এবং প্রায়ই সীমান্ত এলাকায় যাতায়াত করতেন। এভাবেই ওই কিশোরীর সঙ্গে তার যোগাযোগ গড়ে ওঠে।
আরও
ঘটনার রাতে এলাকাবাসী রানুকে আটক করলে তরুণীর পরিবার বিয়ের দাবি জানায়। সারারাত ভুক্তভোগী কিশোরী বিয়ের বিষয়ে অনড় থাকলেও পরদিন সন্ধ্যায় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী, ইউপি সদস্য এবং সাবেক চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে অর্থের বিনিময়ে সমঝোতার সিদ্ধান্ত হয়। তবে ঠিক কত অর্থ মেয়ের পরিবার হাতে পেয়েছে, তা নিয়ে বিরোধপূর্ণ বক্তব্য পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রবাসী রানু দাবি করেছেন, তিনি ষড়যন্ত্রের ফাঁদে পড়েছেন। অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিরা স্বীকার করেছেন, ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত এবং মীমাংসার সময় বহু পক্ষ জড়িত ছিল। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।











