পূর্ব ইউরোপের দেশে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে এক লাখের বেশি বিদেশি শ্রমিক কাজের অনুমতিপত্র পেয়েছেন। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে বলে দেশটির সংবাদমাধ্যম ক্রোয়েশিয়া উইক এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত মোট এক লাখ ১৫ হাজার বিদেশি নাগরিককে বসবাস ও কাজের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। গত বছরের প্রথমার্ধে অনুমতি দেওয়া হয়েছিল এক লাখ ১২ হাজার ৩৮৯ জনকে। অনুমতিপ্রাপ্তদের মধ্যে সর্বাধিক শ্রমিক এসেছেন বসনিয়া ও হারজেগোভিনা, নেপাল, সার্বিয়া, ফিলিপাইন ও ভারত থেকে। তবে কতজন বাংলাদেশি কর্মী অনুমতি পেয়েছেন সে বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
সংবাদমাধ্যমটির আরেক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল, অনেক বাংলাদেশি শ্রমিক ওয়ার্ক পারমিট পাওয়ার পর কর্মস্থলে যোগদান না করা বা যোগদানের কিছুদিন পর চলে যাওয়ার কারণে তাদের বিষয়ে সরকার ও নিয়োগদাতাদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারকেও অবহিত করা হয়েছিল।
আরও
ক্রোয়েশিয়ার শ্রমবাজারে সবচেয়ে বেশি কাজের অনুমতি দেওয়া হয়েছে পর্যটন খাতে, যার সংখ্যা প্রায় ৩৮ হাজার। এরপর রয়েছে নির্মাণ খাত (৩৬ হাজার ৮৬৪) এবং শিল্প খাত (১৩ হাজার ৭০৪)। পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে দেওয়া হয়েছে সাত হাজারের বেশি অনুমতিপত্র। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় এসব খাতে বিদেশি শ্রমিক অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।
ক্রোয়েশিয়ান এমপ্লয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা বলছেন, শ্রম মন্ত্রণালয় দক্ষতার সঙ্গে এ প্রক্রিয়া পরিচালনা করছে। তাদের মতে, জনসংখ্যা হ্রাস এবং তরুণদের বিদেশমুখী হওয়ার কারণে দেশটিতে বিদেশি শ্রমিকের চাহিদা বেড়েছে। অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী পরিচালক ইরিনা ভেবার বলেন, ইতিহাসে এখন ক্রোয়েশিয়ায় সর্বাধিক নিবন্ধিত শ্রমিক রয়েছেন, যা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করছে। তবে তিনি আরও উল্লেখ করেন, চাকরিদাতাদের কাছে ভাষা, দক্ষতা ও দলে কাজ করার সক্ষমতার কারণে স্থানীয় কর্মীরাই অগ্রাধিকার পাচ্ছেন।










