ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে প্রবাসে নিহত সন্তানকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য এক অসহায় বাবা-মা সংবাদ সম্মেলন করেছেন। ১৫ সেপ্টেম্বর বিকেলে উপজেলার গুণবহা গ্রামে নিজের বাড়িতে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বিপুল সংখ্যক এলাকার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। কান্না জড়িত কণ্ঠে বাবা মোঃ আতিয়ার শিকদার জানান, তার পুত্র মোঃ রাজিব শিকদার (৩২) জীবিকার তাগিদে প্রায় তিন মাস আগে উত্তর মেসিডোনিয়ায় গিয়েছিলেন।
রাজিব গত ১২ সেপ্টেম্বর কর্তব্যরত অবস্থায় একটি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন। মেসিডোনিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের কোনও কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকায় ছেলের মরদেহ দেশে আনা অত্যন্ত জটিল ও ব্যয়সাপেক্ষ। এই প্রক্রিয়ার জন্য প্রায় ২৫ লক্ষ টাকার প্রয়োজন, যা তাদের মতো দরিদ্র পরিবার বহন করতে পারছে না। এজন্য তারা প্রধান উপদেষ্টা ডঃ মোহাম্মদ ইউনুসের সহায়তা চেয়ে আবেদন জানিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে মা মমতাজ বেগমও কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “সংসারের অভাব দূর করতে সমস্ত সহায়-সম্বল বিক্রি করে ছেলেকে বিদেশ পাঠিয়েছি। এখন টাকার অভাবে শেষবারের মতো মৃত সন্তানের মুখ দেখার সুযোগ হারাচ্ছি। আমরা চাই আমাদের আদরের সন্তানকে নিজ হাতে দাফন করতে পারি।”
আরও
স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দও সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। ফরিদপুর জেলা যুবদলের সহ-সম্পাদক ইমরান হুসাইন, বোয়ালমারী পৌর জামায়াতের সেক্রেটারি হাফেজ মোঃ সাজ্জাদ আলীসহ অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তি প্রবাসে নিহত রাজিবের মরদেহ দেশে ফেরাতে সরকারের সাহায্য চাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পরিবার ও স্থানীয়রা দেশব্যাপী সহানুভূতি ও সহায়তা কামনা করেছেন, যাতে রাজিবের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে যথাযথভাবে দাফন সম্পন্ন করা যায়।











