কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় সাবেক স্বামীর হত্যাকাণ্ডে এক নারীসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১১। নিহত দুলাল হোসেন (৩৫) ডিভোর্সের পরও সাবেক স্ত্রী ফাতেমা আক্তার সিনথিয়াকে নানা ভয়ভীতি দেখিয়ে তার জীবনে হস্তক্ষেপ চালাতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এই কারণে বর্তমান স্বামী ও মা-বাবার সহায়তায় দুলালকে হত্যা করেন সিনথিয়া। পরে মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে রেললাইনের পাশে ফেলে রাখা হয়।
র্যাব জানায়, গত ১০ সেপ্টেম্বর কুমিল্লার লালমাই উপজেলার পেরুল এলাকায় রেললাইনের পাশে অজ্ঞাত এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে লাকসাম রেলওয়ে পুলিশ। মরদেহে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল। পরে তদন্তে নিহতের পরিচয় মেলে—তিনি কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার ভল্লবপুর গ্রামের জব্বর মালের ছেলে দুলাল হোসেন।
র্যাব-১১ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল এইচ এম সাজ্জাদ হোসেন মঙ্গলবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে সংবাদ সম্মেলনে জানান, গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্যের ভিত্তিতে ১৫ সেপ্টেম্বর কুমিল্লার দেবিদ্বার ও লাকসামসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছে।
আরও
গ্রেপ্তারদের ভাষ্যমতে, দুলাল হোসেন বিয়ের পর থেকেই স্ত্রী সিনথিয়াকে শারীরিক ও মানসিক দুবাই প্রবাসী নির্যাতন করতেন। পরবর্তীতে সিনথিয়া দুবাই প্রবাসী আবুল হাসেমের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলেন এবং তাকে বিয়ে করেন। কিন্তু দুলাল ডিভোর্স না মেনে বারবার সিনথিয়ার বাড়িতে গিয়ে তাকে জোরপূর্বক রাত্রিযাপনে বাধ্য করতেন। এতে অতিষ্ঠ হয়ে সিনথিয়া, তার বর্তমান স্বামী হাসেম ও পরিবারের সদস্যরা হত্যার পরিকল্পনা করেন।
ঘটনার দিন সিনথিয়া স্বামী হাসেমের পরামর্শে দুলালকে ঘুমের ওষুধ মেশানো জুস খেতে দেন। অচেতন হয়ে পড়লে তাকে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরে ড্রাইভার রুবেলের সহায়তায় মরদেহ গাড়িতে তুলে লালমাই রেললাইনের পাশে ফেলে রাখা হয় বলে র্যাব জানিয়েছে।












