ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শীতপ্রধান মৌসুমে দক্ষিণ কোরিয়ার তাপমাত্রা মাইনাসে নেমে যায়। তবে মার্চ থেকে অক্টোবর পর্যন্ত আট মাস আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় কৃষি, শুঁটকি প্রক্রিয়াজাতকরণ, সবজি বাগান ও বাজারজাতকরণের মতো কাজে বিদেশি মৌসুমী শ্রমিক নিয়োগ দিচ্ছে দেশটি। প্রায় ১০ লাখ কর্মীর চাহিদা থাকলেও এখনো বাংলাদেশ সেই সুযোগ যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারেনি।
দক্ষিণ কোরিয়ায় মৌসুমী কর্মী পাঠানোর জন্য ভাষা শিক্ষা বা বিশেষ দক্ষতার প্রয়োজন নেই। নিয়োগকর্তার খরচে আসা-যাওয়া, থাকা-খাওয়ার পাশাপাশি আকর্ষণীয় বেতনের সুযোগ রয়েছে। একজন শ্রমিক আট মাসে গড়ে ১২ লাখ টাকা আয় করতে পারেন, যা দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ভিয়েতনাম, ভারত ও ফিলিপাইনের মতো দেশগুলো ইতোমধ্যেই এই খাতে শ্রমিক পাঠাচ্ছে।
বাংলাদেশ থেকে কিছুসংখ্যক কর্মী সরকারি উদ্যোগে বোয়েসেলের মাধ্যমে কোরিয়ায় যাচ্ছেন। তবে সমঝোতা স্মারক না থাকায় মৌসুমী শ্রমবাজারে বড় পরিসরে অংশ নিতে পারছে না বাংলাদেশ। বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোও ভিসা জটিলতার কারণে কর্মী পাঠাতে ব্যর্থ হয়েছে। বিশেষ করে মৌসুমী কাজের জন্য সঠিক ভিসা (ই-৮) না থাকায় সি-৪-৫ ভিসায় কর্মী পাঠানো সম্ভব হয়নি।
আরও
২০২৩ সালের জুন থেকে ২০২৪ সালের জুলাই পর্যন্ত বোয়েসেলের মাধ্যমে মাত্র ৩ হাজার ৭৫৩ জন বাংলাদেশি কর্মী দক্ষিণ কোরিয়ায় গিয়েছেন। অথচ শুধু বেসরকারি খাতেই হাজারো কর্মীর চাহিদাপত্র এসেছে। বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সুযোগ তৈরি হলেও কোরিয়ার স্থানীয় সরকার বিভাগের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক না থাকায় তা বাস্তবায়ন সম্ভব হচ্ছে না।
জনশক্তি কর্মসংস্থান ব্যুরো (বিএমইটি) ও প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, দক্ষিণ কোরিয়ার কৃষি খাতে মৌসুমী শ্রমিক পাঠাতে হলে তাদের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক চুক্তি করতে হবে। এখন এ নিয়ে আলোচনা চলছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কূটনৈতিক অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর নিশ্চিত করতে পারলে দক্ষিণ কোরিয়ার এই সম্ভাবনাময় শ্রমবাজার বাংলাদেশের জন্য উন্মুক্ত হবে।









