বাংলাদেশের অর্থনীতি দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসী আয়ের ওপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজার—সৌদি আরব, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)—বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম প্রধান উৎস। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, এখনো রেমিট্যান্স জিডিপির ৭ শতাংশের বেশি জোগান দেয় এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে সচল রাখে।
কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউএই-তে ভিসা ইস্যুর জটিলতা বাংলাদেশের শ্রমবাজারে বড় ধাক্কা দিয়েছে। ২০২৩ সালে যেখানে প্রায় এক লাখ কর্মী ইউএই-তে ছিলেন, ২০২৪ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৪৭ হাজারে। ভিসা প্রক্রিয়ার জটিলতা, দক্ষতার ঘাটতি ও অভিবাসন নীতির পরিবর্তনের কারণে এ হ্রাস ঘটেছে। অথচ ভারত, পাকিস্তান ও ফিলিপাইনের মতো দেশগুলো ইউএই শ্রমবাজারে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করেছে।
এই প্রবণতার সরাসরি প্রভাব পড়ছে রেমিট্যান্সে। সৌদি আরব, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য থেকে প্রবাসী আয় বাড়লেও ইউএই থেকে আসা রেমিট্যান্স কমছে। একই সঙ্গে দেশটি কেবল শ্রমবাজার নয়, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের বৈশ্বিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছে। দুবাই ও আবুধাবিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ফিনটেক, সবুজ জ্বালানি ও স্মার্ট সিটির মতো খাতে ভারত, ফিলিপাইন ও মিশর নিজেদের কার্যকর উপস্থিতি নিশ্চিত করেছে। কিন্তু বাংলাদেশ এখনো এই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি।
আরও
বিশ্লেষকদের মতে, এ অবস্থায় বাংলাদেশকে দ্বিমুখী কৌশল নিতে হবে। একদিকে দক্ষ শ্রমশক্তি গড়ে তুলে ভিসা–সংক্রান্ত জটিলতা কমাতে হবে, অন্যদিকে প্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশি উদ্যোক্তা ও আইটি কোম্পানিকে ইউএই-র ভেঞ্চার ক্যাপিটাল, ইনোভেশন হাব ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। দূতাবাসগুলোকে কেবল শ্রমবাজার নয়, প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ খাতেও সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে।
অন্যথায়, ইউএই বাজারে প্রতিযোগী দেশগুলোর কাছে বাংলাদেশ শুধু শ্রম রপ্তানিতেই নয়, প্রযুক্তি খাতেও পিছিয়ে পড়বে। তখন বৈদেশিক মুদ্রা আয় সংকুচিত হবে এবং বাংলাদেশ কেবল নিম্ন দক্ষতার শ্রম রপ্তানিকারক দেশ হিসেবেই পরিচিত থাকবে, যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতিকে দুর্বল করে দেবে। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে উন্নত অর্থনীতির স্বপ্ন কাগজেই সীমাবদ্ধ থেকে যাবে।











