বেনাপোল থেকে ময়মনসিংহগামী একটি বাসে ফেলে যাওয়া ব্যাগ ফেরত দিয়ে অনন্য সততার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) শিক্ষার্থী মো. হাবিবুর রহমান রনি। ব্যাগটির ভেতরে ছিল স্বর্ণালংকার, নগদ অর্থ, গাড়ির চাবি ও একটি আইফোন। সোমবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যাগটি প্রকৃত মালিক আনোয়ার হোসেনের হাতে তুলে দেন তিনি। আনোয়ার হোসেন ময়মনসিংহ শহরের শম্ভূগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা ও শাপলা হ্যাচারির মালিক।
শিক্ষার্থী রনি জানান, শনিবার (২৩ আগস্ট) তিনি বন্ধুর বিয়ে শেষে শামীম এন্টারপ্রাইজের একটি বাসে ঝিনাইদহ থেকে ময়মনসিংহে ফিরছিলেন। বাস থেকে নামার সময় পাশের সিটের নিচে একটি ব্যাগ দেখতে পান তিনি। যেহেতু মালিককে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না, তাই ব্যাগটি নিজের কাছে রেখে দেন।
ব্যাগ খুলে দেখা যায়, সেখানে রয়েছে আইফোন, স্বর্ণালংকার, কাগজপত্র ও ওষুধ। আইফোনটি চার্জ দেওয়ার পরও একদিনেরও বেশি সময় কোনো কল না আসায় রনি থানায় জানানোর কথা ভাবছিলেন। অবশেষে সোমবার সকালে ফোনে একটি ম্যাসেজ ও কল আসার পর তিনি প্রকৃত মালিককে শনাক্ত করতে সক্ষম হন।
আরও
ব্যাগ ফিরে পেয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন প্রবাসফেরত আনোয়ার হোসেন। তিনি জানান, সম্প্রতি তিনি ভারতের পর্তুগিজ দূতাবাসে ভিসার জন্য সাক্ষাৎ দিতে গিয়েছিলেন। ফেরার পথে তাঁর স্ত্রী অসাবধানতাবশত বাসে ব্যাগটি ফেলে যান। ব্যাগে থাকা আইফোনে ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি ছিল। এগুলো হারালে মারাত্মক সমস্যায় পড়তে হতো। ব্যাগটি সততার সঙ্গে ফিরিয়ে দেওয়ায় তিনি শিক্ষার্থী রনির প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এই ঘটনাকে স্থানীয়রা সততার এক বিরল উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁদের মতে, রনির মতো তরুণরা সমাজে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করলে অন্যদেরও সততার পথে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করবে।









