সৌদি আরবের শ্রমবাজারে কাজের প্রলোভনে গিয়ে প্রতারণার শিকার হয়ে ফিরছেন অসংখ্য বাংলাদেশি কর্মী। নির্ধারিত বেতন বা কাজ না পেয়ে কেউ কেউ অবৈধ অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন, আবার অনেকে গ্রেপ্তার হয়ে জেল খাটার পর দেশে ফিরছেন। চাঁদপুরের রাসেল আহমেদ তাদের একজন। ছয় মাস কারাভোগ শেষে তিনি দেশে ফিরেছেন শুধু গায়ের কাপড় আর একটি মোবাইল ফোন নিয়ে।
ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, দেশের বিভিন্ন এজেন্সি চার থেকে সাত লাখ টাকা পর্যন্ত নিয়ে ভালো বেতনের চাকরির প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে তা মেলে না। সৌদি পৌঁছে দেখা যায়, প্রতিশ্রুত কাজ নেই, ইকামাও দেওয়া হয় না। ফলে শ্রমিকরা অনিশ্চয়তায় পড়েন। গাজীপুরের রুবেল হোসেন হোটেলের চাকরির কথা বলে সৌদি গেলেও পরে দেখা যায় সাপ্লাই কোম্পানিতে খাটতে হচ্ছে। তিনি বলেন, “গাঁধার মতো খাটালেও বেতন নেই, ইকামা নেই।”
ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের তথ্যমতে, ২০২৪ সালের জুলাই পর্যন্ত সৌদি আরব থেকে অন্তত ২৫ হাজার বাংলাদেশি শ্রমিক দেশে ফেরত এসেছেন। এ বছর মোট ফেরত আসার সংখ্যা ৫০ হাজারের বেশি। তারা জানান, ভিসার বিপুল টাকা খরচ করেও কোনো কাজ না পেয়ে দেশে ফিরতে হচ্ছে।
আরও
অভিযোগ ব্যবস্থাপনা সেলের তথ্য বলছে, বর্তমানে শুধু সৌদি আরব সম্পর্কিত অভিযোগই রয়েছে এক হাজার ৮৬০টি। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নিয়োগ এজেন্সিগুলোর অনিয়ম, সমন্বয়হীনতা এবং সরকারি পর্যায়ে তদারকির অভাবই এই সংকটের মূল কারণ। ব্র্যাক কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেন, শ্রমবাজারের এ সংকটকে গুরুত্ব সহকারে সমাধান না করলে দেশের রেমিট্যান্স ও মর্যাদা দুটোই হুমকির মুখে পড়বে।
রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর সাবেক নেতা ফখরুল ইসলাম বলেন, “সৌদির শ্রমবাজারে দীর্ঘদিন ধরেই প্রতারণা চলছে। আমাদের প্রশাসন যদি কড়া পদক্ষেপ না নেয় এবং সৌদি সরকারের সঙ্গে আলোচনায় না বসে, তবে শ্রমিকদের দুর্দশা কমবে না।” অভিবাসী অধিকারকর্মীরাও মনে করেন, দালাল চক্র ও এজেন্সির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া ছাড়া এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।











