নিরাপত্তা মহড়ার অংশ হিসেবে নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে গত বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) বোমা উদ্ধার ও নিষ্ক্রিয়করণ অনুশীলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মহড়ায় হঠাৎ বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে টেলিফোনে খবর আসে—ঢাকা থেকে সৈয়দপুরগামী একটি ফ্লাইটে বোমা রাখা আছে। এরপর দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানিয়ে অ্যাভিয়েশন সিকিউরিটি, ফায়ার সার্ভিস, র্যাব, এপিবিএন, সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও মেডিকেল টিমসহ প্রায় দুই শতাধিক সদস্যের অংশগ্রহণে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
বোম ডিসপোজাল ইউনিট বিমান থেকে বোমা সদৃশ বস্তুটি উদ্ধার করে এবং পরে তা নিষ্ক্রিয় করে। এ সময় বিমানটির চারপাশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। মহড়ার সময় একজন বিমানযাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে বিমান থেকে উদ্ধার করে বিমানবন্দরের মেডিকেল টিম প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন। এরপর লালমনিরহাট থেকে আনা বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টারে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় সিএমএস হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।
মহড়া বেলা সাড়ে ১২টায় শুরু হয়ে দুপুর পৌনে ২টায় সমাপ্ত হয়। এটি মূলত সৈয়দপুর বিমানবন্দর নিরাপত্তা সংস্থার সদস্যদের জন্য বার্ষিক নিরাপত্তা মহড়া ছিল। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) বিমানবন্দরটির ট্যাক্সি ক্যাব ও রানওয়ে টার্মার্কের সম্মুখে মহড়ার আয়োজন করেন।
আরও
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোঃ মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক। তিনি মহড়া সফলভাবে সম্পন্ন হওয়াকে প্রশংসা করে বলেন, “প্রতিটি বিমানবন্দরকে মহড়ার মাধ্যমে সক্ষমতা নিশ্চিত করতে হবে। মাত্র ৫০ মিনিটে কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়া খুবই ইতিবাচক। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলা সম্ভব।”
তিনি আরও জানান, এ ধরনের মহড়া শুধু দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে না, বরং বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় শক্তিশালী করে। এতে যাত্রীদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তা ও সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়। সৈয়দপুর বিমানবন্দর ব্যবস্থাপক একেএম বাহাউদ্দিন জাকারিয়া অনসীন কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।









