সিলেট নগরীর আম্বরখানায় প্রবাসী যুবক আবুল হাসান (২৬) অপহরণের শিকার হয়ে নির্মমভাবে প্রাণ হারিয়েছেন। মুক্তিপণ না পেয়ে অপহরণকারীরা তাকে বেধড়ক মারধর করে ভবনের ছাদ থেকে ফেলে দেয়। এসময় তার কাছ থেকে টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। ঘটনাটি ঘটে গত ১৮ জুন রাতে, আর মৃত্যুর খবর আসে পরদিন হাসপাতালে।
ঘটনার ৪৭ দিন পর র্যাব-৯ ও র্যাব-৩ এর যৌথ অভিযানে পলাতক দুই আসামি—সিলেটের নাজমুল হোসেন ওরফে রায়হান (২০) এবং সুনামগঞ্জের রাজু আহমদ (১৮)—কে গ্রেপ্তার করা হয়। শুক্রবার রাতে রাজধানীর ধানমন্ডি ও সিলেট নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পৃথক অভিযানে তাদের আটক করা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন র্যাব-৯ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) কেএম শহিদুল ইসলাম সোহাগ।
র্যাব জানায়, ঈদুল আজহার পরদিন অসুস্থ বোনকে দেখতে সিলেট আসেন গোলাপগঞ্জের প্রবাসী আবুল হাসান। চাচাতো ভাইকে নিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার পথে সিএনজিচালক ও এক যাত্রীর প্রলোভনে তারা আম্বরখানার ব্রিটানিয়া হোটেলের পাশে পৌঁছান। সেখানে একটি ভবনের ছাদে নিয়ে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মারধর, টাকা ও মোবাইল ছিনতাই এবং পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আবুলকে ছাদ থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়।
আরও
গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে সিলেট উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যেখানে ১৯ জুন তিনি মারা যান। নিহতের ভাই খালেদ আহমদ কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করলে পুলিশ ও র্যাব অভিযানে নামে। এর আগে এক আসামি গ্রেপ্তার হয়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন এবং সহযোগীদের নাম প্রকাশ করেন।
র্যাবের দাবি, গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের থানায় হস্তান্তর করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে। এ ঘটনায় প্রবাসী মহলে শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে, বিশেষ করে নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।










