রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের ডাঙ্গাহাতিমোহন গ্রামে পরকীয়ার অভিযোগে এক ইরাক প্রবাসীর স্ত্রীকে স্থানীয় সালিশে তালাক দেওয়ানো হয়েছে। গত ১৭ জুলাই রাতে ঘটেছে এই ঘটনা, যা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, গৃহবধূ ও তার কথিত প্রেমিকের হাতে ইয়াবা ধরিয়ে একটি ভিডিওও ধারণ করা হয়, তবে সেসব মাদকের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই রাতে এক যুবক গৃহবধূর ঘরে প্রবেশ করলে পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। এরপর দরজা খুলে ওই যুবককে খাটের নিচে লুকিয়ে থাকতে দেখা যায়। তাকে বের করার সময় গৃহবধূর দেবর হৃদয়কে গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধের চেষ্টা করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে। পরে স্থানীয় লোকজন বাঁধুলী খালকুলা গ্রামের মানিক অধিকারী নামে এক যুবককে আটক করে এবং গৃহবধূর ঘর থেকে ইয়াবা উদ্ধারের অভিযোগ তোলে।
তবে এ নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। এক ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন যুবক ওই গৃহবধূ ও যুবকের হাতে ইয়াবা জোর করে তুলে দিচ্ছে এবং ভিডিও ধারণ করছে, যেখানে দুজনকেই কান্না ও চিৎকার করতে দেখা গেছে। এ নিয়ে ভিডিওটির সত্যতা ও এর উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
আরও
ঘটনার পর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে রাতেই গৃহবধূর সঙ্গে ইরাক প্রবাসী স্বামীর তালাক সম্পন্ন করা হয় এবং তার পরিবারের কাছে হাওলাত নেওয়া ৫০ হাজার টাকা ফেরত দেওয়া হয় বলে দাবি করা হয়। এছাড়া অভিযুক্ত যুবককে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
ইউপি সদস্য মুরাদ তালুকদার জানান, তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন দুইজনকে আলাদা কক্ষে আটকে রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে পারিবারিক আলোচনায় তালাকের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে ইয়াবা সংক্রান্ত কিছু তিনি নিজে দেখেননি।
বালিয়াকান্দি থানার ওসি জামাল উদ্দিন জানান, টহল পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও ইয়াবা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ তাদের কাছে করা হয়নি। যেহেতু উভয় পক্ষ আপোষ-মীমাংসায় পৌঁছায়, তাই পুলিশ ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পুরো ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা ও স্থানীয় সালিশের পদ্ধতি নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠছে।










