বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার আমতলী এলাকায় এক প্রবাসীকে অস্ত্রের মুখে অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। রবিবার (১৩ জুলাই) সকাল ৮টার দিকে আমতলী সরকারি দীঘি সংলগ্ন চৌরাস্তার একটি চায়ের দোকান থেকে জিয়াউর রহমান জিরুল নামের ওই ব্যক্তিকে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অপহৃতকে উদ্ধার এবং ঘটনায় জড়িত চারজনকে আটক করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একটি কালো রঙের মাইক্রোবাস ও ৩-৪টি মোটরসাইকেলযোগে ১৫-২০ জনের একটি সশস্ত্র দল ঘটনাস্থলে এসে জিয়াউর রহমানকে মারধর করে চোখ বেঁধে গাড়িতে তুলে নেয়। এরপর তারা পানগুছি নদীতে ফেরি চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।
অপহৃত জিয়াউর রহমান গাজীপুর জেলার আমতলী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ভারতের বেঙ্গালুরুতে ভাঙারির ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং সম্প্রতি দেশে ফিরে আসেন। চা দোকানে বসে থাকা অবস্থায় তাকে অপহরণ করা হয় বলে জানিয়েছেন দোকান মালিক বাচ্চু মিয়া।
আরও
ঘটনার পরপরই মোরেলগঞ্জ থানার ওসি মো. মতলুবর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশ ফেরিঘাটে অভিযান চালায়। ফেরিঘাটে একটি হায়েস মাইক্রোবাস থেকে আহত অবস্থায় জিয়াউর রহমানকে উদ্ধার করা হয়। একইসঙ্গে গাড়ি থেকে চারজনকে আটক করা হয়। আটককৃতরা হলেন- জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের খুলনা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক এইচ.এম খলিলুর রহমান, গাড়িচালক আমিরুজ্জামান খোকন, আব্দুস সত্তার রাজ এবং মোয়াজ্জেম হাওলাদার।
জিয়াউরের স্ত্রী ময়না বেগম জানান, তার স্বামী অপহৃত হওয়ার পরপরই তারা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশের সহায়তা চান। পুলিশের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে অপহরণকারী চক্রের কয়েকজন সদস্য ধরা পড়ে এবং জিয়াউরকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
মোরেলগঞ্জ থানার ওসি বলেন, এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মামলার প্রস্তুতি চলছে। অপহরণের মূল কারণ ও পেছনে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।











