কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) স্থানীয় শাখার প্রধান সমন্বয়ক রাজিন সালেহের বিরুদ্ধে যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। একইসঙ্গে আড়াই বছরের শিশু কন্যাকে জোরপূর্বক স্ত্রীর কাছ থেকে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করেছেন তার স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার।
বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) সকালে পাকুন্দিয়া প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন ভুক্তভোগী সুমাইয়া। তিনি লিখিত বক্তব্যে জানান, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে রাজিন তাকে প্রায়ই নির্যাতন করতেন এবং একাধিকবার বাবার বাড়ি পাঠিয়ে দেন। শিশু সন্তানের কারণে তিনি সংসার টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তাকে তালাকের মুখোমুখি হতে হয়েছে।
সুমাইয়ার অভিযোগ, ঘুষের মাধ্যমে চাকরি নেওয়ার জন্য তার স্বর্ণালংকার বিক্রি করে দেন রাজিন। এরপর নির্যাতনের মাত্রা আরও বাড়ে। গত জুনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দিলেও এনসিপির কেন্দ্রীয় এক নেতা তাকে অভিযোগ প্রত্যাহারের জন্য চাপ দেন। কিন্তু কোনো সমাধান না হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়।
আরও


তিনি আরও জানান, গত ৫ জুলাই রাজিন বাড়িতে এসে ভাগিনার সহায়তায় শিশুকন্যাকে নিয়ে যান এবং আর ফেরত দেননি। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিল্লাল হোসেনকে জানালে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেন। পরে জানা যায়, ২৭ জুন রাজিন তাকে আদালতের মাধ্যমে তালাক দিয়েছেন, তবে সুমাইয়া তা সম্পর্কে অবগত ছিলেন না।
অভিযুক্ত রাজিন সালেহ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি আইন মেনেই তালাক দিয়েছি এবং কাবিনের অর্থ ডাকযোগে পাঠিয়েছি, যা সে গ্রহণ করেনি। একটি মহল রাজনৈতিকভাবে আমাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে এসব করছে।”
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিল্লাল হোসেন বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। শিশু কন্যার ভবিষ্যতের কথা বিবেচনায় নিয়ে একটি ন্যায়সঙ্গত সমাধান প্রয়োজন।”









