সিলেটের ওসমানীনগরে পরকীয়ার জেরে স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার পর নানা ধরনের হয়রানির শিকার হচ্ছেন এক ইতালি প্রবাসী। প্রবাসী আব্দুল হাদীর পরিবারের অভিযোগ, তালাকের পর স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহলের সহায়তায় তাঁর বিরুদ্ধে প্রহসনমূলক সালিশি রায় দেওয়া হয়েছে, চালানো হয়েছে সংঘর্ষ, এমনকি জোরপূর্বক সম্পত্তি দখলেরও চেষ্টা চলছে। থানায় মামলা করতে না পেরে আদালতের দ্বারস্থ হন তাঁরা, যা তদন্ত করে দ্রুত প্রতিবেদন দিতে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
২০০৫ সালে খয়েরপুর গ্রামের শিল্পী বেগমকে বিয়ে করেন আব্দুল হাদী। বিয়ের পরপরই জীবিকার তাগিদে তিনি ইতালি চলে যান। দীর্ঘ নয় বছর দেশে না ফেরার সুযোগে তাঁর স্ত্রী পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ। বিষয়টি জানতে পেরে হাদী স্ত্রীকে সতর্ক করলেও কোনো পরিবর্তন হয়নি। বরং স্বামীর পাঠানো অর্থে স্ত্রী তাঁর প্রেমিককে সহায়তা করেন। সম্প্রতি প্রেমিক রুহেল মিয়ার সঙ্গে একটি হোটেলে আপত্তিকর অবস্থায় ধরা পড়লে আত্মঘাতী হন ওই যুবক, যা সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন তোলে।
এর আগেই স্ত্রী সংসারের স্বর্ণালঙ্কার ও মূল্যবান সামগ্রী পিতার বাড়িতে সরিয়ে নেন। বিদেশ থেকে পাঠানো টাকা নিয়েও রয়েছে অস্পষ্টতা। এসব ঘটনার পর স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। একমাত্র কন্যার ভবিষ্যৎ চিন্তায় হাদী স্ত্রীর সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হয়ে ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর তালাক দেন এবং চলতি বছরের ৪ মে সিলেট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
আরও
তালাকের পর স্ত্রীকে মোহরানা ও সন্তানের খরচ দিতে সম্মত হন হাদী। তবে বুরুঙ্গা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আখলাকুর রহমানের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত সালিশে স্ত্রীকে ৮ লক্ষ টাকা, দুটি বেডরুম, দুটি দোকানঘর, ৬ একর জমি এবং প্রতি মাসে ৩০ হাজার টাকা দেওয়ার প্রস্তাব চাপিয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া তাঁকে ইতালি পাঠানোর আগ পর্যন্ত সম্পত্তিতে অংশ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েও আপত্তি জানায় প্রবাসীর পরিবার। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে বৈঠকেই হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ।
হামলার ঘটনায় থানায় মামলা করতে না পারায় চলতি মাসের ৫ মে সিলেট আমল গ্রহণকারী আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন প্রবাসীর ভাই। আদালত মামলাটি তদন্ত করে দ্রুত প্রতিবেদন দিতে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন। বর্তমানে তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী চেয়ারম্যানের ছত্রছায়ায় স্বামীর দুটি কক্ষ দখল করে রেখেছেন বলে দাবি করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যেও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে চেয়ারম্যান আখলাকুর রহমান বলেন, সালিশে কিছু অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলেও তিনি ব্যক্তিগতভাবে জড়িত নন। ওসমানীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোনায়েম মিয়া বলেন, আদালতের মামলা সম্পর্কে জানা না গেলেও থানায় একটি লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে।









