ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল মামুনকে শাস্তিমূলক বদলি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক প্রতিনিধির অভিযোগের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, আল মামুন এক বক্তব্যে বলেছিলেন, “আওয়ামী লীগ আজ হোক, কাল হোক আবার ফিরে আসবে।”
বুধবার (১১ ডিসেম্বর) দুপুরে ফরিদপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এই অভিযোগ করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধি আনিসুর রহমান সজল।
তিনি জানান, সম্প্রতি সদরপুরে এক স্মরণসভায় ইউএনও আল মামুন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। সেখানে তিনি কথোপকথনের এক পর্যায়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন।
উক্ত সভায় উপস্থিত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মোখলেসুর রহমান মন্তব্যটি শুনে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, “এত দুঃসাহস! পরিবর্তিত সরকারের পেছনে ইন্ধন জোগানোর কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না। যদি কেউ এমন কাজে পৃষ্ঠপোষকতা করে, তবে আমাদের জানাবেন।”
আরও
তিনি আরও নির্দেশ দেন, ওই ইউএনও-কে তাৎক্ষণিক বদলি করা হোক এবং তার বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জেলা প্রশাসক মো. কামরুল হাসান মোল্লাকে নির্দেশ দেন যে ওই কর্মকর্তাকে দিনশেষের মধ্যেই প্রত্যাহার করতে হবে। সিনিয়র সচিব এও ঘোষণা দেন যে, তিনি মন্ত্রণালয়ে ফিরে তাকে সাময়িক বরখাস্তের উদ্যোগ নেবেন।
তবে ইউএনও আল মামুন তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “আমি এমন কোনো বক্তব্য দিইনি। বৈঠকে বিএনপি ও জামায়াতের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। সেখানে বিভ্রান্তি ছড়ানোর উদ্দেশ্যে আমাকে টার্গেট করা হয়েছে।”
এই ঘটনায় প্রশাসনের কঠোর অবস্থান একদিকে সরকারি কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার উপর জোর দিচ্ছে, অন্যদিকে প্রমাণের সঠিকতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। বিতর্কিত এই অভিযোগ ও এর পরবর্তী ব্যবস্থা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনার ঝড় উঠেছে।
এখন দেখার বিষয়, ঘটনা তদন্তে আরও কী সিদ্ধান্ত আসে এবং প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এ ধরনের পদক্ষেপের কী প্রভাব পড়ে।











