ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামে স্থানীয় আদিবাসী জনগোষ্ঠীকে অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে রাজ্য সরকার। হিন্দুত্ববাদী ভাবধারায় পরিচালিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার এই সিদ্ধান্তে ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে। ফরাসি সংবাদমাধ্যম এএফপি জানিয়েছে, বাংলাদেশ সীমান্ত ঘেঁষা এলাকাগুলোতে ‘নিরাপত্তা হুমকি’ দেখিয়ে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এক বক্তব্যে দাবি করেন, অসমীয়াভাষী জনগণ সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে হামলার হুমকির মুখে রয়েছেন। এ প্রেক্ষিতেই বুধবার এক ওয়েবসাইট চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়, যার মাধ্যমে ‘আদিবাসীরা’ অস্ত্রের লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে পারবেন—বিশেষ করে যারা নিজেকে হুমকির মুখে মনে করছেন।
আসাম রাজ্য ঐতিহাসিকভাবে জাতিগত, ধর্মীয় ও ভাষাগত বিভাজনে জর্জরিত, যেখানে প্রায় ৩৫ শতাংশ মানুষ মুসলিম, যাদের অধিকাংশের মাতৃভাষা বাংলা। বিশ্লেষকদের মতে, অস্ত্র লাইসেন্স প্রদানের এই সিদ্ধান্ত মূলত বাংলা ভাষাভাষী মুসলমানদের প্রতি শত্রুভাবাপন্ন একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা যাচ্ছে। কারণ, অতীতেও তাদের ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারী’ আখ্যা দিয়ে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে বর্তমান সরকার।
আরও
বিরোধীদলীয় নেতারা এই উদ্যোগের তীব্র সমালোচনা করেছেন। কংগ্রেস নেতা গৌরব গগৈ এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে বলেছেন, এ ধরনের পদক্ষেপ গ্যাং সহিংসতা ও ব্যক্তিগত প্রতিশোধের প্রবণতা বাড়াবে। তিনি এটিকে ‘সুশাসনের বিপরীত’ এবং ‘আইনহীনতার দিকে বিপজ্জনক যাত্রা’ বলে অভিহিত করেছেন।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে আসামে চালু হওয়া বিতর্কিত জাতীয় নাগরিক নিবন্ধন (এনআরসি) প্রক্রিয়ায় প্রায় ২০ লাখ মানুষ নাগরিকত্ব তালিকা থেকে বাদ পড়েন, যাদের অনেকে মুসলিম ও বাংলা ভাষাভাষী। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর আসামে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে, আর রাজ্য সরকার তার ‘আদিবাসী’ সমর্থকদের অস্ত্র দেওয়ার মাধ্যমে নিরাপত্তার প্রশ্নে আরও বিতর্ক সৃষ্টি করল বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।










