জীবিকার সন্ধানে বিদেশে পাড়ি জমানো আপন দুই ভাইয়ের মধ্যে ঘটে গেল এক রোমহর্ষক ও মর্মান্তিক ঘটনা। পারিবারিক বিষয় নিয়ে বিরোধের জেরে ইতালির লেইজ শহরে বড় ভাইয়ের হাতে নির্মমভাবে খুন হয়েছেন ছোট ভাই। শুধু তাই নয়, হত্যার পর দেশে থাকা পরিবারের সদস্যদের সরাসরি ভিডিও কল করে ছোট ভাইয়ের নিথর মরদেহ দেখিয়েছেন অভিযুক্ত ওই পাষণ্ড বড় ভাই। নিহত ছোট ভাইয়ের নাম নয়ন ফকির এবং অভিযুক্ত বড় ভাইয়ের নাম হুমায়ুন ফকির; তাঁরা মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার পশ্চিম সোনারং গ্রামের দেলু ফকিরের ছেলে।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বাংলাদেশ সময় রাত আনুমানিক ৮টার দিকে ইতালিতে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। দুই ভাইয়ের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় ও তীব্র বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে বড় ভাই হুমায়ুন ফকির ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে ছোট ভাই নয়নকে হত্যা করেন। হত্যার পরপরই তিনি মুন্সীগঞ্জে নিজ বাড়িতে ভিডিও কল করেন এবং পরিবারের সদস্যদের কাছে খুনের দায় স্বীকার করে অবলীলায় ছোট ভাইয়ের রক্তাক্ত মরদেহ দেখান। আপন ভাইয়ের এমন নিষ্ঠুর পরিণতি দেখে পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে চরম শোক ও গভীর চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহতের এক বন্ধুর দেওয়া তথ্যমতে, ঘাতক হুমায়ুন ফকির দীর্ঘ প্রায় ১২ বছর ধরে প্রবাসী জীবন যাপন করছেন। শুরুতে তিনি লিবিয়া যান এবং পরবর্তীতে সেখান থেকে ইতালিতে পাড়ি জমান। এরপর ২০২৩ সালে তাঁরই সার্বিক সহযোগিতায় ছোট ভাই নয়ন ফকিরও ইতালিতে যান। জানা যায়, হুমায়ুন ফকির দুটি বিয়ে করেছেন এবং ঘটনার দিন তাঁর প্রথম স্ত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে তালাক দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ছোট ভাই নয়ন তাঁর বড় ভাইকে প্রথম স্ত্রীকে তালাক দিতে বারবার নিষেধ করেন। মূলত এই দাম্পত্য ও পারিবারিক বিষয়টি নিয়েই দুই ভাইয়ের মধ্যে মারাত্মক দ্বন্দ্বের সূত্রপাত হয়, যা শেষ পর্যন্ত এমন মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডে রূপ নেয়।
আরও
প্রবাসের মাটিতে আপন দুই ভাইয়ের এমন অমানবিক ও মর্মান্তিক পরিণতিতে মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দেশে থাকা পরিবারের সদস্যরা এই আকস্মিক ও অবিশ্বাস্য হত্যাকাণ্ডের খবরে পুরোপুরি দিশাহারা হয়ে পড়েছেন। এ বিষয়ে টঙ্গীবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ডাবলু গণমাধ্যমকে বলেন, পারিবারিক দ্বন্দ্বে ইতালিতে এক ভাইয়ের হাতে আরেক ভাইয়ের খুন হওয়ার খবরটি তাঁরা শুনেছেন এবং স্থানীয়ভাবে বিষয়টি পুলিশকে অবগত করা হয়েছে। প্রবাসে ঘটে যাওয়া এই ঘটনার পরবর্তী ব্যবস্থা ও মরদেহ দেশে আনার বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা খোঁজখবর নিচ্ছেন।










