যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে একটি নৈশভোজে গুলি চালানো বন্দুকধারী কোল অ্যালেনের ঘোষণাপত্র (ম্যানিফেস্টো) উদ্ধৃত করায় এক সাংবাদিকের ওপর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ঘটনার পর এক সাক্ষাৎকারে ওই ঘোষণাপত্রের প্রসঙ্গ উঠলে ট্রাম্প মেজাজ হারান এবং সংবাদমাধ্যমকে আক্রমণ করে বসেন। একই সঙ্গে নৈশভোজে হামলা চালানো ওই সন্দেহভাজন বন্দুকধারীকে তিনি ‘উগ্রপন্থায় প্রভাবিত’, ‘খ্রিস্টবিরোধী’ এবং ‘খুবই অসুস্থ মানসিকতার ব্যক্তি’ বলে আখ্যায়িত করেন।
ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর গত রোববার (২৬ এপ্রিল) সিবিএস নিউজের সাংবাদিক নোরা ও’ডনেলের সঙ্গে কথা বলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সাক্ষাৎকারের একপর্যায়ে ও’ডনেল যখন হামলাকারী অ্যালেনের ম্যানিফেস্টো থেকে কিছু অংশ উদ্ধৃত করেন, তখন ট্রাম্প দৃশ্যতই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। সংবাদমাধ্যমের তীব্র সমালোচনা করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “আমি অপেক্ষা করছিলাম আপনি এটা পড়বেন, কারণ আমি জানতাম আপনি তাই করবেন। আপনারা ভয়ংকর মানুষ। আমি ধর্ষক নই, আমি কাউকে ধর্ষণ করিনি।” এ সময় ও’ডনেল জানতে চান যে, ট্রাম্প কি মনে করেন হামলাকারী তাঁকেই ইঙ্গিত করছিল? তবে ট্রাম্প সে প্রশ্ন এড়িয়ে গিয়ে সাফ জানিয়ে দেন, “আমি পেডোফাইল (শিশুকামী) নই।”
জানা যায়, কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে জড়িয়ে অ্যালেন তার ঘোষণাপত্রে বিতর্কিত কথা লিখেছেন বলে ধারণা থেকেই ট্রাম্প এমন কড়া প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। যদিও ম্যানিফেস্টোতে সরাসরি এপস্টেইনের নাম উল্লেখ ছিল না। এ প্রসঙ্গে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প বলেন, “আপনি একজন অসুস্থ মানুষের লেখা এসব বাজে কথা পড়লেন? আমাকে এমন সব বিষয়ের সঙ্গে জড়ানো হয়েছে, যার সঙ্গে আমার কোনও সম্পর্ক নেই। আমি এসব অভিযোগ থেকে সম্পূর্ণভাবে দায়মুক্ত হয়েছি।” এ ছাড়া হামলাকারীর ধর্মীয় বিশ্বাস সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, সে একসময় ধর্মানুরাগী হলেও পরে উগ্রপন্থায় প্রভাবিত হয়ে খ্রিস্টবিরোধী হয়ে যায় এবং মানসিকভাবে সে খুবই অসুস্থ ছিল।
আরও
অন্যদিকে, নৈশভোজে এমন ভয়াবহ হামলার সময় খুব কাছাকাছি গুলির শব্দ শোনার পরও তিনি মোটেই ‘উদ্বিগ্ন ছিলেন না’ বলে দাবি করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। নিজের এমন অবিচল থাকার কারণ হিসেবে তিনি তাঁর জীবনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। ট্রাম্প বলেন, “আমি জীবন বুঝি। আমরা এক উন্মাদ পৃথিবীতে বাস করি।” সব মিলিয়ে, নৈশভোজের ওই হামলার ঘটনার চেয়েও সাংবাদিকের সঙ্গে ট্রাম্পের এই উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় এবং তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা পুরনো অভিযোগগুলোর ক্ষুব্ধ অস্বীকৃতি মার্কিন রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।










