সর্বশেষ

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে লিখলেই বাতিল হবে ভিসা!

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে লিখলেই বাতিল হবে ভিসা!Probashir city Popup 19 03

ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনামলে আমেরিকায় অভিবাসন নীতি কঠোর হওয়া নিয়ে বিশ্বব্যাপী আলোচনা চলছে। একদিকে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান, অন্যদিকে বিদেশী শিক্ষার্থীদের ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম প্রবর্তন, এসব বিষয়ই সম্প্রতি আমেরিকার অভ্যন্তরে এবং আন্তর্জাতিক মহলে চর্চিত হচ্ছে। বিশেষ করে, আমেরিকায় পড়াশোনা করতে যাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন এক কঠিন শর্ত আরোপ করেছে মার্কিন সরকার।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, আমেরিকার স্টেট ডিপার্টমেন্ট বিদেশী শিক্ষার্থীদের ভিসা আবেদন যাচাইয়ের সময় তাদের সোশ্যাল মিডিয়া একাউন্টগুলোও পর্যালোচনা করবে। এর মাধ্যমে দেখা হবে, শিক্ষার্থীরা যদি কোনওভাবে আমেরিকা বা ইসরাইলের বিরুদ্ধে সাপোর্ট দেখান, তাহলে তাদের ভিসা বাতিল করা হতে পারে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্ক রুবিও সম্প্রতি এই নির্দেশনা জারি করেছেন। তিনি বলেন, “যারা আমেরিকা বা তার মিত্র দেশগুলোর বিরুদ্ধে সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু প্রকাশ করেন, তাদের ভিসা দেওয়া হবে না।”

মার্ক রুবিওর এই কঠোর পদক্ষেপের পেছনে মূলত ইসরাইলের গাজায় চলমান হামলার বিরুদ্ধে আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ এবং বিদেশী শিক্ষার্থীদের এতে অংশগ্রহণের ঘটনা রয়েছে। অনেক বিদেশী শিক্ষার্থী আমেরিকান শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মিলিত হয়ে এসব প্রতিবাদে অংশ নিয়েছিল, যা কিছু ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে শাস্তি হিসেবে বহিষ্কার করার ঘটনাও ঘটেছে।

এছাড়া, মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বিদেশী শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বছরে প্রায় ৪৪ বিলিয়ন ডলার আয় করে, যা তাদের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে, নতুন নিয়মের ফলে আমেরিকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর এই আয় ও মাল্টিকালচারাল পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যদি বিদেশী শিক্ষার্থীদের প্রবাহ কমিয়ে দেয়, তাহলে তাদের আয় কমবে, যা তাদের কর্মী ছাটাই, টিউশন ফি বাড়ানো এবং গবেষণা প্রকল্প বন্ধ করার মতো সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে।

এদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’ নীতির আওতায় এই ধরনের কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। ট্রাম্পের মতে, আমেরিকা এখন নিজের ঐতিহ্য ও স্বার্থের দিকে মনোনিবেশ করতে চায় এবং বিদেশী শক্তিগুলোর প্রভাব কমিয়ে দিয়ে দেশকে শক্তিশালী করতে চায়।

এই নতুন নিয়মটি যেখানে কিছু শিক্ষার্থীর জন্য ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, সেখানে এর অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক প্রভাব নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। এ অবস্থায়, বিদেশী শিক্ষার্থীদের সংখ্যা কমানো হলে আমেরিকা কীভাবে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

আরও দেখুনঃ

whatsappচ্যানেল ফলো করুন

প্রবাস টাইমে লিখুন আপনিও। প্রবাসে বাংলাদেশি কমিউনিটির নানা আয়োজন, ঘটনা-দুর্ঘটনা, প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা, সমস্যা-সম্ভাবনা, সাফল্য, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের খবর, ছবি ও ভিডিও আমাদের পাঠাতে পারেন [email protected] মেইলে।

Probashir city Popup 19 03
Probashir city Squre Popup 19 03