দক্ষিণ আফ্রিকার ইস্টার্ন কেপ প্রদেশের সমো এলাকায় ‘মা ক্যাশ অ্যান্ড ক্যারি’ সুপারশপে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ছয় বাংলাদেশি প্রবাসীর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল শনিবার বাদ জোহর দেশটির কুইন্সটাউন জামে মসজিদে দুই দফায় জানাজা শেষে কুইন্সটাউনের ইজিবিলিনি মুসলিম কবরস্থানে তাঁদের দাফন করা হয়।
জানাজায় স্থানীয় মুসল্লিদের পাশাপাশি মুসলিম কমিউনিটির শীর্ষ নেতা ডা. মাকাদা, বাংলাদেশি চিকিৎসক ডা. ইউনুস, সোমালিয়া ও ইথিওপিয়ান কমিউনিটির প্রতিনিধিসহ দক্ষিণ আফ্রিকার বিভিন্ন শহর থেকে আসা প্রবাসী বাংলাদেশি ও কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন। জানাজা শেষে নিহত ব্যক্তিদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। কুইন্সটাউন বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতা শহিদুল হক হেলালের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ও দোকানমালিকের সহযোগিতায় দাফনের সব কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। তবে মরদেহগুলো পৃথকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব না হওয়ায় ছয়জনকে তিনটি কবরে দাফন করা হয়, যেখানে প্রতি কবরে দুজন করে শায়িত আছেন।
স্থানীয় কমিউনিটি নেতা মাহমুদুর রহমান ও দোকানমালিক আলমগীর হোসেন জানান, আগুনের তীব্রতায় মরদেহগুলো সম্পূর্ণ পুড়ে কঙ্কালে পরিণত হয়েছিল। ফলে কোনটি কার মরদেহ, তা বাহ্যিকভাবে শনাক্ত করার কোনো উপায় ছিল না। পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার প্রয়োজন হলেও সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। এ ছাড়া মরদেহ দেশে পাঠানোর আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়াও বেশ জটিল। তাই সব দিক বিবেচনা করে নিহত ব্যক্তিদের পরিবার ও স্বজনদের সম্মতিতেই দক্ষিণ আফ্রিকায় তাঁদের দাফনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
আরও
গত ২৮ জুলাই ভোররাতে সমো এলাকার ওই সুপারশপের আবাসিক অংশে মর্মান্তিক এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে দোকানের পেছনের কক্ষে ঘুমিয়ে থাকা সাত বাংলাদেশির মধ্যে ছয়জনই ঘটনাস্থলে নিহত হন। নিহত ব্যক্তিরা হলেন নারায়ণগঞ্জের মো. ফয়সাল (২৬), মো. ফাহিম (২৯), শামীম হাসান (৩০), মোহাম্মদ আপন (২৩), নূর মোহাম্মদ (৫৫) এবং মুন্সীগঞ্জের রাজিক বেপারী (৫৫)। এই ঘটনায় মো. সুমন নামের একজন আহত হলেও গতকাল তিনি সহকর্মীদের জানাজা ও দাফনকাজে উপস্থিত ছিলেন।
দুর্ঘটনার পর দক্ষিণ আফ্রিকায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার শাহ আহমেদ শফীর নেতৃত্বে দূতাবাসের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তাঁরা স্থানীয় পুলিশ ও প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় আইনি কার্যক্রম সম্পন্ন করেছেন। মর্মান্তিক এই অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে পুলিশের তদন্ত এখনো অব্যাহত রয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনায় দক্ষিণ আফ্রিকাজুড়ে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।











