শুক্রবার তিন ঘণ্টার সফরে ঢাকা এসেছিলেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী। ঢাকায় আসার পর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত বৈঠক শেষে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, “বিদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশিদের অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি আমাদের বিবেচনায় রয়েছে এবং আমরা শিগগিরই এ ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ করব। তবে যেসব কর্মী আবেদনের সব শর্ত পূরণ করবে, শুধু তাদেরকেই অগ্রাধিকারের জন্য বিবেচনা করা হবে।
বাংলাদেশে বিনিয়োগের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মালয়েশিয়ার বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে চান, কিন্তু দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার কারণে তারা অর্থ লগ্নি করার সাহস পান না।
আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, “আমাদের দেশে আমরা সরকারি প্রশাসন বলতে বুঝি সুশাসন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান এবং অর্থনীতির বিভিন্ন মৌলিক বিষয়। কারো বিরুদ্ধে যদি অনিয়মের কোনো অভিযোগ আসে, সেক্ষেত্রে আমরা আপোস করি না, কারণ কোনো রাজনৈতিক নেতা, তার পরিবারের সদস্য বা বন্ধুরা সরকারি সুবিধা নিয়ে নিজেদের অর্থ-সম্পদ বৃদ্ধি করবেন— এমন সংস্কৃতি আমাদের এখানে নেই।
আরও
এ কারণে সম্ভবত ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও মালয়েশিয়ার বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করার সাহস পান না। আমি তাদের সঙ্গে (বাংলাদেশে বিনিয়োগের ব্যাপারে) কথা বলে দেখতে পারি, তবে একটি ব্যাপারে আমাদের সবারই পরিষ্কার ধারণা থাকা উচিত যে দুর্নীতি এবং পরিশ্রম— এ দুই ইস্যুতে আমি কখনও আপোস করি না।
তবে কৃষি, উচ্চশিক্ষা, হালাল অর্থনীতি এবং বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশ নির্মাণ খাতে বাংলাদেশের সরকারের সঙ্গে মালয়েশিয়ার সরকার কাজ করতে আগ্রহী বলে জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী। দু’দেশ এ ইস্যুতে দু’দেশের সরকারি প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি যৌথ কমিশন গঠন করা যেতে পারে বলেও মনে করেন তিনি।
প্রসঙ্গত, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের এটিই প্রথম বাংলাদেশ সফর। একই সঙ্গে আনোয়ার ইব্রাহিমের এই সফরটি নতুন এই অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে প্রথম কোনো বিদেশি সরকারপ্রধানের ঢাকা সফর।












