Opens in a new tab
সর্বশেষ

কংগ্রেসে হারের পর এবার ক্ষমতা হারানোর শঙ্কায় ট্রাম্প

1793679283 4f07272bd9f75b310a911c200f3a978bWeb Popup (3)

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের উভয় কক্ষেই বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি। সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ—উভয় কক্ষেরই নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে চলে যাওয়ায় ট্রাম্পের রাজনৈতিক ক্ষমতা ও নীতিনির্ধারণী কার্যক্রম এখন কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। ফলে প্রেসিডেন্ট হিসেবে মেয়াদের বাকি দুই বছর পদে পদে ডেমোক্র্যাটদের তীব্র বাধার মুখেই চলতে হবে ট্রাম্প প্রশাসনকে। বুধবার (৪ নভেম্বর) দ্য ইনডিপেনডেন্ট, রয়টার্স ও এএফপির প্রকাশিত নির্বাচনি ফল অনুযায়ী, ১০০ আসনের সিনেটে ডেমোক্র্যাটরা ৫৩টি আসনে জয় নিশ্চিত করেছে, যেখানে রিপাবলিকানরা পেয়েছে ৪১টি আসন। ডেমোক্র্যাটরা গুরুত্বপূর্ণ সাতটি আসন রিপাবলিকানদের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছে। অন্যদিকে, প্রতিনিধি পরিষদেও বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। সর্বশেষ প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, দলটি ২১১টি আসনে জয় নিশ্চিত করেছে, যার মধ্যে ২৫টি আসন তারা রিপাবলিকানদের কাছ থেকে পুনরুদ্ধার করেছে। বিপরীতে রিপাবলিকানরা পেয়েছে ১২৪টি আসন। তবে ভোট গণনা চলমান থাকায় এই সংখ্যায় আরও পরিবর্তন আসতে পারে।

কংগ্রেসের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ হারানোর ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রমের ওপর ডেমোক্র্যাটদের নজরদারি বহুগুণ বাড়বে। বিশেষ করে ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতি, প্রশাসনের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ এবং ট্রাম্প পরিবারের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড নিয়ে নতুন করে বড় পরিসরে তদন্ত শুরু করতে পারে বিরোধী দল। প্রয়োজনে সরকারি কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করার ক্ষমতাও এখন ডেমোক্র্যাটদের হাতে। এমনকি প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথসহ প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারাও যেকোনো সময় জবাবদিহি ও তদন্তের আওতায় আসতে পারেন। এছাড়া নতুন কোনো আইন পাস, সরকারি বাজেট অনুমোদন এবং গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ট্রাম্পকে এখন ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে সমঝোতা করেই এগোতে হবে। বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রেও সিনেটের সমর্থন পাওয়া বাধ্যতামূলক হওয়ায় ট্রাম্পের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনে রিপাবলিকানদের এই ভরাডুবির পেছনে জীবনযাত্রার বাড়তি ব্যয়, দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং ইরানকে ঘিরে ট্রাম্পের বিতর্কিত যুদ্ধনীতি সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে। সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের ব্যয়সংকট নিরসনে যথাযথ গুরুত্ব না দেওয়া এবং প্রশাসনের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ দলটির জনপ্রিয়তায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। তবে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারালেই যে ট্রাম্পকে প্রেসিডেন্টের পদ হারাতে হবে, বিষয়টি এমন নয়। মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টকে অভিশংসন করতে হলে প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার পাশাপাশি সিনেটে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন হয়। তবে এটি নিশ্চিত যে, মেয়াদের শেষ দুই বছরে আইন প্রণয়ন থেকে শুরু করে যেকোনো প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে পদে পদে ডেমোক্র্যাটদের কঠোর বিরোধিতার মুখে পড়তে হবে ট্রাম্পকে।

আরও দেখুন

খবরটি শেয়ার করুন:
whatsappচ্যানেল ফলো করুন

প্রবাস টাইমে লিখুন আপনিও। প্রবাসে বাংলাদেশি কমিউনিটির নানা আয়োজন, ঘটনা-দুর্ঘটনা, প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা, সমস্যা-সম্ভাবনা, সাফল্য, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের খবর, ছবি ও ভিডিও আমাদের পাঠাতে পারেন [email protected] মেইলে।

Web Popup (3)
Web Squre popup