নিজের সব সহায়-সম্বল ও জমিজমা সন্তানদের নামে লিখে দিয়েছিলেন। স্বপ্ন দেখেছিলেন, জীবনের শেষ দিনগুলো তাদের পরম যত্নে ও সান্নিধ্যে কাটাবেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন আজ চরম দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে ৯৫ বছর বয়সী বৃদ্ধ বাবা হাজী শামসুল মোল্লার জন্য। সম্পত্তির ভাগবাঁটোয়ারা শেষ হতেই ছয় সন্তানের কাছে তিনি এখন শুধুই ‘বোঝা’। আশ্রয় দূরে থাক, আপন সন্তানেরা এই অশীতিপর বৃদ্ধকে বাড়ি থেকে বের করে ঠাঁই দিয়েছেন পথের ধারের এক গাছতলায়। অমানবিক ও হৃদয়বিদারক এই ঘটনাটি ঘটেছে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার উত্তর হিরন গ্রামে।
জীবনের সবটুকু ঘাম ঝরিয়ে দুই ছেলে ও চার মেয়েকে বড় করেছিলেন শামসুল হক মোল্লা। স্ত্রীর মৃত্যুর পর হজ পালন করে নিজের সহায়-সম্বল সন্তানদের মাঝে ভাগ করে দেন তিনি। কিন্তু সম্পত্তি পেয়েই পাল্টে যায় সন্তানদের রূপ। সম্প্রতি বড় মেয়ে মায়া বেগমের বাড়ি থেকে তাকে ভাইদের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু ছেলেরা ও তাদের স্ত্রীরা তাকে বাড়িতে ঢুকতে না দিয়ে মঙ্গলবার সকালে সরাসরি রাস্তার পাশের একটি গাছের নিচে ফেলে রেখে আসেন। সম্পত্তির কমবেশি হওয়ার অজুহাতে মেয়েরাও বাবার দায়িত্ব নিতে নারাজ। কাঁদতে কাঁদতে এই অসহায় বাবা জানান, সারা জীবন কষ্ট করে সন্তানদের বড় করলেও আজ তিনি তাদের কাছে কেবলই বোঝা।
জীবিত বাবাকে নিয়ে সন্তানদের এমন নিষ্ঠুরতার খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় ওঠে। স্থানীয়দের মতে, আগেভাগে জমি লিখে দেওয়াই কাল হয়েছে এই হতভাগ্য পিতার। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এলে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেন কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফ-উল-আরেফীন। তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, সন্তানেরা এই বৃদ্ধের দায়িত্ব নিতে অস্বীকৃতি জানালে ‘পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন’ অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ইতিমধ্যে সমস্যা সমাধানে অভিযুক্ত সন্তানদের ডেকে পাঠিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।











