যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় পাম বিচের একটি আবাসিক এলাকার খুব কাছে একটি ছোট ব্যক্তিগত উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে পাইলটসহ ৯ জন আরোহী নিহত হয়েছেন। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনার ঠিক আগমুহূর্তের একটি শিউরে ওঠার মতো দৃশ্য পাশ দিয়ে যাওয়া একটি চলন্ত গাড়ির ড্যাশক্যামে ধরা পড়েছে। সেই ভিডিওতে দেখা যায়, উড়োজাহাজটি আক্ষরিক অর্থেই একটি মিসাইলের মতো তীব্র বেগে আকাশ থেকে মাটিতে আছড়ে পড়ছে এবং মুহূর্তের মধ্যেই পুরো উড়োজাহাজটি বিশাল এক আগুনের গোলায় পরিণত হচ্ছে। ব্যস্ত একটি মহাসড়কের ওপর উড়োজাহাজটি আছড়ে পড়লেও, ভাগ্যক্রমে সামান্য দূরে থাকা বসতবাড়ি বা চলন্ত কোনো গাড়ির ওপর সেটি পড়েনি। যদি সেটি বাড়িঘরের ওপর পড়ত, তবে হতাহতের সংখ্যা আরও বহুগুণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল।
ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় পতিত হওয়ার আগে উড়োজাহাজের পাইলট কন্ট্রোল টাওয়ারের সঙ্গে জরুরি যোগাযোগ করেছিলেন। তাদের সেই কথোপকথন থেকে উড়োজাহাজটি ঠিক কীভাবে বিধ্বস্ত হয়েছিল, তার রোমহর্ষক বর্ণনা উঠে এসেছে। জানা গেছে, ঘটনার সময় উড়োজাহাজটি প্রায় ৩৫ হাজার ফুট উঁচু দিয়ে পূর্ব দিকের গন্তব্যে যাচ্ছিল। ঠিক সেই মুহূর্তে পাইলট এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলকে জানান যে, তাদের উড়োজাহাজটি তীব্র ঝাঁকুনির বা টার্বুলেন্সের শিকার হয়েছে। বৈরী আবহাওয়া ও প্রচণ্ড ঠান্ডার কারণে উড়োজাহাজের গায়ে পাতলা ও শক্ত বরফ জমে যাওয়ার কথাও জানান তিনি। এই বরফ জমা ঠেকাতে এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে পাইলট কন্ট্রোল টাওয়ারের কাছে উড়োজাহাজটিকে আরও দুই হাজার ফুট উঁচুতে নেওয়ার জরুরি অনুমতি চেয়েছিলেন।
কিন্তু কন্ট্রোল টাওয়ারের সঙ্গে কথা বলার ঠিক কয়েক মুহূর্ত পরই উড়োজাহাজটি হঠাৎ করে খাড়াখাড়িভাবে তীব্র বেগে নিচে নামতে শুরু করে। এই আকস্মিক পতনের মুখে পাইলট মারাত্মকভাবে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তিনি চরম ভয়ার্ত কণ্ঠে কন্ট্রোল টাওয়ারকে জানান যে, প্রতি মিনিটে তার উড়োজাহাজটি ১০ হাজার ফুট বেগে নিচে নেমে আসছে। এরপর চোখের পলকেই সেই পতনের মাত্রা মিনিটে ২০ হাজার এবং একপর্যায়ে ৩০ হাজার ফুটে পৌঁছানোর কথা জানান তিনি। এই পতন এতই দ্রুত ছিল যে, তা উড়োজাহাজটির নিচে নামার মূল নকশাগত বা নির্ধারিত গতির চেয়ে অনেক বেশি বাইরে ছিল। পতনের একেবারে শেষ মুহূর্তে পাইলট ‘মে ডে, মে ডে’ সংকেত দিয়ে ঘোষণা করেন যে তারা মাটিতে আছড়ে পড়তে যাচ্ছেন। এরপর আর কোনো কথা শোনা যায়নি, অস্বাভাবিক গতিতে উড়োজাহাজটি মহাসড়কে আছড়ে পড়ে।
আরও
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ফ্লোরিডার উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে ভয়াবহ বিস্ফোরণের কারণে উড়োজাহাজে থাকা কেউই প্রাণে বাঁচতে পারেননি। যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে এই দুর্ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু করেছে। আবহাওয়াজনিত বরফ জমা নাকি অন্য কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি—ঠিক কী কারণে এমন ভয়াবহ ঘটনা ঘটল, তা দ্রুতই তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।










