সৌদি আরবে ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিদের সাম্প্রতিক প্রাণঘাতী হামলার পেছনে সরাসরি ইরানের মদদ রয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ তুলেছে রিয়াদ। সৌদি আরবের দাবি, তেহরানের এই উসকানি ও সহায়তা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব এবং চীনের মধ্যস্থতায় সই হওয়া ঐতিহাসিক ‘বেইজিং চুক্তির’ চরম লঙ্ঘন।
সৌদি আরবের পাবলিক ডিপ্লোমেসি বিষয়ক উপমন্ত্রী রায়েদ ক্রিমলি বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে জানান, বেইজিং চুক্তির প্রতিশ্রুতি ভেঙে ইরান এখনো হুতি মিলিশিয়াদের অস্ত্র, প্রশিক্ষণ ও সার্বিক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। তিনি আরও জানান, জুলাই মাসে ওমানে বিদ্যমান মতপার্থক্য দূর করতে সৌদি আরবের একটি শান্তি আলোচনার প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান-সমর্থিত হুতিরা। উল্টো রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, আরামকোর সদর দপ্তর এবং পবিত্র মক্কা ও মদিনার মতো স্পর্শকাতর লক্ষ্যবস্তুতে হামলা জোরদার করেছে তারা। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইয়েমেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও স্পষ্ট জানিয়েছেন, ব্যর্থ যুদ্ধবিরতির পথে ফিরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই, হুতিদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়া এখন অপরিহার্য।
হুতিদের পেছনে ইরানের প্রকাশ্য মদদ থাকা সত্ত্বেও রিয়াদ এখনো তেহরানের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার পথ খোলা রেখেছে বলে জানান ক্রিমলি। তিনি স্পষ্ট করেন, সৌদি আরব ইরানের কাছে কোনো মধ্যস্থতা চায়নি, বরং হুতিদের সঙ্গেই সরাসরি যোগাযোগ রাখছে, যেখানে ওমান কেবল সহায়ক হিসেবে কাজ করছে। এদিকে, রাশিয়া ও চীনের কোনো কোনো পক্ষ থেকে (এমনকি বাণিজ্যিক খাত থেকেও) ইরান ও হুতিরা সামরিক সক্ষমতা বা গোয়েন্দা তথ্য পাচ্ছে বলে ইঙ্গিত দেন এই সৌদি কূটনীতিক। তবে এসব বিষয়ে মস্কো ও বেইজিংয়ের সঙ্গে রিয়াদের নিয়মিত আলোচনা চলছে এবং জিসিসিভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গেও রিয়াদ সমন্বয় রাখছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
আরও
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত অবসানে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতা প্রচেষ্টাকে সৌদি আরব সমর্থন করে বলে জানান ক্রিমলি। তবে তিনি এ ক্ষেত্রে দুটি প্রধান বাধার কথা উল্লেখ করেন—হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচলের বিনিময়ে মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ভবিষ্যৎ আলোচনার স্পষ্ট রূপরেখা। ক্রিমলির মতে, তেহরান পর্যাপ্ত ছাড় না দিয়ে প্রস্তাব নিয়ে টালবাহানা করে আলোচনার প্রক্রিয়াকে কেবল দীর্ঘায়িত করছে। মূলত ইরানের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য ও ঐকমত্যের অভাবেই যেকোনো শান্তিপূর্ণ সমাধানে পৌঁছানোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।










