ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের দায়ের করা এক মামলায় কট্টরপন্থী সংসদ সদস্য হামিদ রাসায়িকে ১০ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির বিশেষ ধর্মীয় আদালত। ইরানে দায়িত্ব পালনরত কোনো সংসদ সদস্যের এভাবে কারাদণ্ড পাওয়ার ঘটনা নজিরবিহীন। বিশ্লেষকদের মতে, শীর্ষ পর্যায়ের এই সাজার মধ্য দিয়ে মূলত ক্ষমতাসীন রক্ষণশীল শিবিরের ভেতরের গভীর রাজনৈতিক ফাটল ও ক্ষমতার দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে চলে এসেছে।
জানা গেছে, ২০২৪ সালে রাসায়ির সম্পাদনায় পরিচালিত সাপ্তাহিক পত্রিকা ‘৯ দে’-তে স্পিকার গালিবাফের বিরুদ্ধে ‘সংসদীয় নথি জালিয়াতি’র অভিযোগ তুলে একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়েছিল। ওই প্রতিবেদনের জেরেই ‘ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর’ দায়ে আদালত তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করেন। সাজা ঘোষণার পরপরই কট্টরপন্থী এই নেতাকে তেহরানের এভিন কারাগারের বিশেষ ধর্মীয় ওয়ার্ডে পাঠানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য কূটনৈতিক আলোচনার প্রেক্ষাপটে যখন ইরানে নীতিনির্ধারণী বিতর্ক তুঙ্গে, ঠিক তখনই এই কারাদণ্ডের ঘটনা কট্টরপন্থী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। সাবেক পরমাণু আলোচক সাঈদ জালিলির ঘনিষ্ঠ কট্টরপন্থী নেতা ও পায়দারি ফ্রন্টের সদস্যরা স্পিকার গালিবাফ এবং প্রধান বিচারপতি গোলাম হোসেইন মোহসেনি-এজেইর কঠোর সমালোচনা করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, দেশের গুরুতর অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সংকটের চেয়ে ব্যক্তিগত ক্ষোভ মেটানো এবং বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করতেই স্পিকার এ পদক্ষেপ নিয়েছেন। ক্ষোভের মাত্রা এতটাই তীব্র যে সরকারপন্থী কিছু সমাবেশেও সম্প্রতি গালিবাফবিরোধী স্লোগান শোনা গেছে।
আরও
সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেহরানের অভ্যন্তরীণ এই রাজনৈতিক টানাপোড়েনকে ওয়াশিংটন বর্তমান কূটনৈতিক অচলাবস্থার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের এই দ্বিধাবিভক্ত রূপটিকে নিজেদের স্বার্থে কাজে লাগানোর সুযোগ পেতে পারে। তবে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব সামনে এলেও ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব বরাবরের মতোই ঐক্যের বার্তা দিয়ে প্রমাণ করতে চাইছে যে তাদের মূল নীতি নির্ধারণী কাঠামো এখনো অটুট রয়েছে। গবেষকদের মতে, প্রকাশ্যে আসা এই বিরোধ কোনো চূড়ান্ত রাজনৈতিক ভাঙন নয়, বরং তীব্র মতপার্থক্যের মাঝেও ক্ষমতার ভারসাম্য ধরে রাখার এক জটিল ও বিশৃঙ্খল প্রক্রিয়া।










