ভারতের উত্তরপ্রদেশ রাজ্যের সাহারানপুরে ভোরের অন্ধকারে আকস্মিক অভিযান চালিয়ে প্রায় দেড়শ বছরের পুরোনো একটি ঐতিহাসিক মসজিদ বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ভোর ৫টার দিকে সাহারানপুর কালেক্টরেট চত্বরে অবস্থিত ‘গরিব নওয়াজ আল মারুফ’ নামের এই ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাটিতে ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়। ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, উচ্ছেদের সময় যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুরো এলাকা কার্যত অবরুদ্ধ করে ফেলা হয়। কালেক্টরেট চত্বরের সব প্রবেশপথ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও প্রাদেশিক সশস্ত্র কনস্ট্যাবুলারি (পিএসি) মোতায়েন করেছিল প্রশাসন।

স্থানীয় প্রশাসন ও রাজস্ব বিভাগের দাবি, বিরোধপূর্ণ ওই ৩১৫ বর্গমিটার জমিটি রাজস্ব নথিতে কালেক্টরেটের সরকারি সম্পত্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত এবং মসজিদটি সেখানে অবৈধভাবে নির্মাণ করা হয়েছিল। ঘটনার সূত্রপাত মূলত গত ২০২৫ সালে, যখন উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠন ‘বজরং দল’-এর এক সাবেক নেতা সরকারি জমি দখলের অভিযোগ আনলে রাজস্ব বিভাগ তদন্ত শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় গত জুলাই মাসে সিটি ম্যাজিস্ট্রেট মসজিদটিকে ‘অনুমোদনহীন স্থাপনা’ আখ্যা দিয়ে ৩০ দিনের মধ্যে তা খালি করার নির্দেশ দেন। এর পাশাপাশি উত্তরপ্রদেশ পাবলিক প্রিমাইসেস আইনের আওতায় ৬ কোটি ৪১ লাখ রুপি জরিমানাও ধার্য করা হয়।
আরও
তবে প্রশাসনের এমন দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে মসজিদ পরিচালনা কমিটি। মসজিদের মুতাওয়াল্লি (তত্ত্বাবধায়ক) তানভীর আহমেদের দাবি, সাহারানপুর কালেক্টরেট ভবন নির্মাণেরও অনেক আগে, ব্রিটিশ আমলে এই মসজিদটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং এ সংক্রান্ত সঠিক আইনি নথি তাঁদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। এমনকি ১৯১১ সালে এই মসজিদে বিদ্যুৎ সংযোগ থাকার সুস্পষ্ট ঐতিহাসিক প্রমাণও রয়েছে বলে জানান তিনি। জানা যায়, সিটি ম্যাজিস্ট্রেটের উচ্ছেদ আদেশের বিরুদ্ধে মসজিদ কমিটি জেলা আদালতে আপিল করেছিল। গত ২ সেপ্টেম্বর আদালত সেই আপিল খারিজ করে দিলেও সরাসরি স্থাপনাটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার কোনো নির্দেশনা দেননি। তা সত্ত্বেও আদালতের আদেশের পরপরই ভোরের আলো ফোটার আগে তড়িঘড়ি করে পুরো স্থাপনাটি মাটিতে মিশিয়ে দেয় জেলা প্রশাসন।










