বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার বন্ধ শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত করতে বর্তমান সরকার জোর কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। খুব শিগগিরই দেশটিতে পুনরায় কর্মী পাঠানোর পথ সুগম হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
আজ বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সংসদ সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের (জামালপুর-৩) এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এই প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
সংসদে দেওয়া জবাবে মন্ত্রী উল্লেখ করেন, মালয়েশিয়া বাংলাদেশের জন্য অন্যতম প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ একটি শ্রমবাজার। তবে নানা কারণে গত ২০২৪ সালের ৩১ মে থেকে দেশটির শ্রমবাজারে নতুন করে বাংলাদেশি কর্মী প্রবেশ বন্ধ রয়েছে। এই দীর্ঘমেয়াদি সংকট কাটিয়ে উঠতে এবং মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালু করতে বর্তমান সরকার উচ্চপর্যায়ে দ্বিপক্ষীয় ও কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে গত ২৪ জুন ২০২৬ তারিখে মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে শ্রমবাজার পুনরায় চালুর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়ে আনুষ্ঠানিক ডেমি-অফিশিয়াল (ডিও) চিঠি পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি মালয়েশিয়ার উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও এ বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে বলে তিনি জানান।
আরও
বিদেশে বাংলাদেশি কর্মীদের নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে সরকারের বহুমুখী পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, বর্তমানে সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, সিঙ্গাপুর, পর্তুগাল, সেশেলস, সার্বিয়া, ফিজি, রোমানিয়া, উত্তর মেসিডোনিয়া, মরিশাস ও ইতালিডেসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে কর্মী পাঠানো হচ্ছে। এ ছাড়া বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশি মিশনগুলোর সুপারিশের ভিত্তিতে প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে স্থানীয় লবিস্ট বা পরামর্শক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার মূল লক্ষ্য হলো আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের হিস্যা আরও বাড়ানো।
কাতার প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, গত ১৮ মে ২০২৬ তারিখে ঢাকায় বাংলাদেশ ও কাতারের মধ্যে সপ্তম যৌথ কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই সভায় কাতার কর্তৃপক্ষ ইলেকট্রিশিয়ান, প্লাম্বার, এসি টেকনিশিয়ান ও ওয়েল্ডার পদে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগের বিশেষ আগ্রহ প্রকাশ করেছে। অন্যদিকে মালয়েশিয়া ও ওমানের শ্রমবাজার বন্ধ বা সীমিত থাকায় এসব দেশে কর্মী পাঠানোর বিষয়ে কূটনৈতিক আলোচনা নিয়মিত অব্যাহত রয়েছে বলে সংসদে জানানো হয়।
সরকারের জনকল্যাণমুখী কার্যক্রমের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, মন্ত্রণালয়ের অধীন সরকারি জনশক্তি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড’ (বোয়েসেল)-এর মাধ্যমে অত্যন্ত কম খরচে বা বিনা খরচে নিয়মিতভাবে ব্রুনেই, জর্ডান, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান ও হংকংসহ বিভিন্ন দেশে কর্মী পাঠানো হচ্ছে। নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন নতুন দেশের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ), সহযোগিতা স্মারক (এমওসি) ও দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
বিদেশে যাওয়ার আগে কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, দেশ ও দেশের বাইরে নিরাপদ কর্মসংস্থানের জন্য ১ লাখ চালককে পেশাদার প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্যে ‘প্রোভাইডিং ড্রাইভিং ট্রেনিং ফর এমপ্লয়মেন্ট অ্যাট হোম অ্যান্ড অ্যাব্রড’ শীর্ষক একটি প্রকল্প বর্তমানে বাস্তবায়নধীন রয়েছে। এ ছাড়া জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) অধীন ঢাকা কারিগরি শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে (ডিটিটিআই) একটি বিশেষ বিদেশি ভাষা ও দক্ষতা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। গন্তব্য দেশগুলোতে ভাষা না জানার কারণে যেন প্রবাসীদের কোনো ধরনের ভোগান্তিতে পড়তে না হয়, সেজন্য এই কেন্দ্রে জাপানি, কোরিয়ান, ইংরেজি, চীনা (ক্যান্টনিজ ও ম্যান্ডারিন), আরবি, ইতালিয়ান ও জার্মানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভাষায় দক্ষ করে তোলার জন্য যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।











