রাজপরিবারের সদস্য হিসেবে ‘অশোভন’ আচরণের অভিযোগে নিজের এক পুত্রবধূর সব রাজকীয় উপাধি প্রত্যাহার করে নিয়েছেন ব্রুনেইয়ের সুলতান হাসানাল বলকিয়াহ। তবে ঠিক কী ধরনের আচরণের কারণে তাঁর বিরুদ্ধে এমন কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে রাজপ্রাসাদের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করা হয়নি। গতকাল শুক্রবার (১৪ আগস্ট) দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
চলতি মাসের শুরুতে ব্রুনেই দারুসসালামের গ্র্যান্ড চেম্বারলেইনের কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, সুলতানের নির্দেশে অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, সুলতান হাজি হাসানাল বলকিয়াহর প্রতি অসম্মান প্রদর্শন এবং রাজপরিবারের সদস্যের স্ত্রী হিসেবে অনুপযুক্ত আচরণের কারণে পেঙ্গিরান রাবিয়াতুল আদাউইয়াহর উপাধি কেড়ে নেওয়া হয়েছে। রাজপ্রাসাদের দাবি, তাঁর এমন কর্মকাণ্ড রাজপরিবারের সুনামও ক্ষুণ্ন করেছে। এর ফলে তিনি তাঁর ‘ইয়াং আমাত মুলিয়া পেঙ্গিরান আনাক ইস্তেরি’ উপাধিটি হারিয়েছেন। রাষ্ট্রায়ত্ত সম্প্রচারমাধ্যম আরটিবি নিউজও একই খবর নিশ্চিত করেছে, তবে ঘটনার পেছনের সুনির্দিষ্ট কারণ নিয়ে তারাও নীরবতা পালন করেছে।
৩৩ বছর বয়সী রাবিয়াতুল আদাউইয়াহ হলেন ব্রুনেইয়ের প্রিন্স আবদুল মালিকের স্ত্রী। ৪৩ বছর বয়সী প্রিন্স আবদুল মালিক সিংহাসনের উত্তরাধিকারের ক্রমতালিকায় চতুর্থ স্থানে রয়েছেন। তিনি সুলতানের প্রথম স্ত্রী রানি সালেহার সন্তান। ২০১৫ সালে রাজধানী বন্দর সেরি বেগাওয়ানের রাজপ্রাসাদে ১০ দিনব্যাপী এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে রাবিয়াতুলের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। এই দম্পতির চার মেয়ে রয়েছে। রাজপ্রাসাদের সূত্র অনুযায়ী, মায়ের উপাধি কেড়ে নেওয়া হলেও সন্তানদের রাজকীয় উপাধিতে কোনো ধরনের পরিবর্তন আনা হয়নি।
আরও
পর্যবেক্ষকদের মতে, সুলতানের তরফ থেকে রাজপরিবারের সদস্যদের উপাধি কেড়ে নেওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগে ২০০৩ সালে দ্বিতীয় স্ত্রী মারিয়াম আবদুল আজিজ এবং ২০১০ সালে তৃতীয় স্ত্রী আজরিনাজ মাজহার হাকিমের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের পর তাঁদের রাজকীয় উপাধিও প্রত্যাহার করা হয়েছিল। তবে রাবিয়াতুলের বিষয়টি কিছুটা ভিন্ন, কারণ তিনি এখনো সুলতানের ছেলের স্ত্রী এবং প্রিন্স আবদুল মালিকের সঙ্গে তাঁর বিবাহবিচ্ছেদের কোনো সরকারি ঘোষণা এখনো আসেনি। তেলসমৃদ্ধ ব্রুনেইয়ের একচ্ছত্র শাসক, ৮০ বছর বয়সী সুলতান হাসানাল বলকিয়াহ ১৯৬৮ সাল থেকে দেশ শাসন করছেন এবং বর্তমানে তিনি বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে সিংহাসনে আসীন থাকা রাজা।










