লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার বাব-এল-মান্দেব প্রণালিতে সৌদি আরবের সামরিক সরঞ্জামবাহী একটি জাহাজে হামলার দাবি করেছে ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথি। গতকাল মঙ্গলবার হুথি নিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যম সাবার বরাত দিয়ে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা এই তথ্য জানিয়েছে। এর আগেই একই প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হুথিদের ভয়াবহ হামলায় অন্তত ৬ জন নিহত ও ১০ জন আহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছিল ইয়েমেনের কোস্টগার্ড। পর পর এমন প্রাণঘাতী ও সামরিক হামলার ঘটনায় ওই অঞ্চলে নতুন করে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
সৌদি আরবের সামরিক জাহাজে হুথিদের এই হামলার পর এর সম্ভাব্য পাল্টা জবাব কী হতে পারে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। এর মূল কারণ হচ্ছে সম্প্রতি পবিত্র মক্কায় স্বাক্ষরিত পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যকার একটি ঐতিহাসিক ত্রিপক্ষীয় সামরিক চুক্তি। এই সমঝোতা অনুযায়ী, এই তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে তা তিন দেশের ওপরই হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান সংঘাতের মধ্যে তিন শক্তিশালী মুসলিম দেশের যৌথ প্রতিরোধের এই সিদ্ধান্ত আঞ্চলিক নিরাপত্তার সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
এই ত্রিপক্ষীয় চুক্তির আগে থেকেই মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে সামরিক সমন্বয় বাড়াতে ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছে রিয়াদ। গত এপ্রিলেই আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল, দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তির অংশ হিসেবে সৌদি আরবের কিং আবদুলআজিজ বিমানঘাঁটিতে পাকিস্তানের বেশ কয়েকটি যুদ্ধবিমান ও সহায়ক উড়োজাহাজ মোতায়েন করা হয়েছে। সে সময় সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সশস্ত্র বাহিনীর কার্যক্ষমতা বাড়াতেই এই যৌথ সামরিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখন হুথিদের এই উসকানিমূলক হামলার পর মিত্রদের নিয়ে সৌদি আরব যৌথভাবে কোনো বড় সামরিক পদক্ষেপ নেয় কি না, সেদিকেই নজর রাখছে পুরো বিশ্ব।










