রেমিট্যান্সযোদ্ধা হিসেবে পরিচিত প্রবাসী বাংলাদেশিদের কষ্টার্জিত অর্থের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং দেশে তাঁদের আর্থিক লেনদেনকে আরও সহজ ও ঝুঁকিমুক্ত করার লক্ষ্যে চালু হতে যাচ্ছে ‘ডিজিটাল প্রবাসী কার্ড’। গতকাল সোমবার (১০ আগস্ট) প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নুর। বিদেশে অবস্থানরত ও অভিবাসনপ্রত্যাশী বাংলাদেশিদের সুবিধার্থে এদিন মন্ত্রণালয় এবং রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংক পিএলসির মধ্যে এ–সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়।
প্রবাসীদের এই ডিজিটাল কার্ড প্রদানের উদ্যোগকে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যায়িত করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখার পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদান অনস্বীকার্য। তাই জাতীয় অর্থনীতিতে তাঁদের এই গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সময়োপযোগী সেবা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। ডিজিটাল প্রবাসী কার্ডের মাধ্যমে রেমিট্যান্সযোদ্ধারা এখন থেকে সরাসরি ব্যাংকিং চ্যানেলে অত্যন্ত দ্রুত ও নিরাপদে লেনদেন করতে পারবেন, যা হুন্ডির মতো অবৈধ মাধ্যমগুলোকে নিরুৎসাহিত করতে বড় ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি প্রবাসীদের জন্য সরকারের দেওয়া বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধাও এই কার্ডের মাধ্যমে সহজেই পাওয়া যাবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ জানান, সরকারের নির্ধারিত পরিকল্পনা ও রোডম্যাপ অনুযায়ী প্রবাসীদের কল্যাণে নানামুখী কার্যক্রম এগিয়ে চলছে। তাঁদের সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বাস্তবায়নে সরকার পুরোপুরি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি আরও বলেন, জনতা ব্যাংকের সঙ্গে স্বাক্ষরিত এই সমঝোতা স্মারক সরকারের সেই বৃহত্তর পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।
আরও
অনুষ্ঠানে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পক্ষে সচিব মো. মোখতার আহমেদ এবং জনতা ব্যাংক পিএলসির পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মজিবর রহমান নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের হয়ে এই সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন। এ সময় মন্ত্রণালয় ও ব্যাংকটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশা করছেন, ডিজিটাল এই উদ্যোগের ফলে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে অর্থ প্রেরণের ক্ষেত্রে আগের চেয়ে অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবেন এবং তাঁদের আর্থিক নিরাপত্তার বিষয়টি আরও সুদৃঢ় হবে।










