বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ভবন নির্মাণের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে আরও একধাপ এগিয়েছে সৌদি আরব। দীর্ঘ বিরতির পর দেশটিতে আবারও পুরোদমে শুরু হয়েছে জেদ্দা টাওয়ারের নির্মাণকাজ। ইতিমধ্যে ভবনটির ৪৩০ মিটারের বেশি অংশের কাজ শেষ হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী পুরো কাজ শেষ হলে এটি দুবাইয়ের বুর্জ খলিফাকে পেছনে ফেলে বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ভবনের নতুন রেকর্ড গড়বে।
গতকাল বুধবার গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। মেগাপ্রকল্পটির প্রধান বিনিয়োগকারী সৌদি ধনকুবের প্রিন্স আল-ওয়ালিদ বিন তালাল জানিয়েছেন, জেদ্দা টাওয়ারের উচ্চতা হবে এক হাজার মিটারের বেশি। তিনি জানান, প্রকল্পের ৪০ শতাংশেরও বেশি কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং অবশিষ্ট কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। সম্প্রতি নির্মাণস্থল পরিদর্শন করে প্রকল্পসংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন প্রিন্স আল-ওয়ালিদ। এ সময় তিনি বলেন, সৃষ্টিকর্তার প্রশংসায় কাজ এগিয়ে চলছে এবং তাঁরা বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু টাওয়ার নির্মাণ সম্পন্ন করবেন।
২০১৩ সালে জেদ্দা টাওয়ারের নির্মাণকাজ শুরু হলেও আর্থিক সংকট এবং ঠিকাদার-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে ২০১৮ সালে তা বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ বিরতির পর গত বছর, অর্থাৎ ২০২৫ সালে পুনরায় প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়। বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ভবন হলো দুবাইয়ের বুর্জ খলিফা, যার উচ্চতা ৮২৮ মিটার। নির্মাণ শেষ হলে জেদ্দা টাওয়ার শুধু বুর্জ খলিফাকেই ছাড়িয়ে যাবে না, বরং বিশ্বের প্রথম এক কিলোমিটার উচ্চতার ভবন হিসেবেও ইতিহাস গড়বে।
আরও
জেদ্দা ইকোনমিক সিটির কেন্দ্রস্থলে নির্মিতব্য এই আকাশচুম্বী ভবনে থাকবে বিলাসবহুল আবাসিক অ্যাপার্টমেন্ট, পাঁচতারা হোটেল, আধুনিক অফিস স্পেস এবং পর্যটকদের জন্য অত্যাধুনিক অবজারভেশন ডেক। এটি সৌদি সরকারের প্রায় ৫ কোটি ৭০ লাখ বর্গফুটজুড়ে গড়ে ওঠা বৃহৎ উন্নয়ন পরিকল্পনার অন্যতম প্রধান প্রকল্প। দেশটিতে ব্যবসা, বিনিয়োগ ও বিলাসবহুল পর্যটন খাতকে আরও শক্তিশালী করাই এর মূল লক্ষ্য। জেদ্দা ইকোনমিক কোম্পানির পরিচালনায় এই প্রকল্পের নকশা ও প্রকৌশল কাজে সহায়তা করছে থর্নটন টোমাসেটি, ল্যাঙ্গান ইন্টারন্যাশনাল এবং সৌদি বিনলাদিন গ্রুপের মতো বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠান। গালফ নিউজের তথ্য অনুযায়ী, সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে ২০২৮ সালের মধ্যেই জেদ্দা টাওয়ারের নির্মাণকাজ শেষ হবে।









