যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সংঘাত এবং তাকে কেন্দ্র করে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে দেখা দেওয়া চরম উত্তেজনার মধ্যেই ইয়েমেনের বিরুদ্ধে এবার জল ও স্থলপথে সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে সৌদি আরব। যুক্তরাজ্যের দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানের বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য হিল গতকাল বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
এই সামরিক অভিযানের মূল লক্ষ্য হলো লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য পথ এবং লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে যুক্তকারী বাব আল-মান্দেব প্রণালিকে ইয়েমেনের সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী হুথিদের দখলদারিত্ব থেকে মুক্ত করা। গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন এই অভিযানের প্রস্তুতি হিসেবে ইতিমধ্যে ইয়েমেনের পূর্বাঞ্চল থেকে নিজেদের সেনা সরাতে শুরু করেছে সৌদি আরব।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে যুক্তরাষ্ট্রের সৌদি দূতাবাসের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বার্তায় জানানো হয়েছে, লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিরাপদ ও অবাধ করতে ‘লোহিত সাগর প্রতিরক্ষা জোট’ নামে একটি সামুদ্রিক জোট গঠনের কার্যক্রম শুরু করেছে রিয়াদ। সম্প্রতি এই ইস্যুতে সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রায় ৫০টি দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। এর মধ্যে তুরস্ক, মিসর, পাকিস্তান ও নাইজেরিয়াসহ আরব ও আফ্রিকার অন্তত ১৪টি দেশ এই জোটে সদস্য হিসেবে যোগ দিতে সম্মত হয়েছে।
আরও
উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর জ্বালানি তেল বিশ্ববাজারে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে হরমুজ প্রণালির পরই লোহিত সাগর এবং বাব আল-মান্দেব প্রণালির ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তেহরান হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ করলে বিকল্প পথ হিসেবে লোহিত সাগরের বাণিজ্য পথ ব্যবহার শুরু করে তেল রপ্তানিকারক দেশগুলো। এ ছাড়া সৌদি আরবের অন্যতম প্রধান সমুদ্রবন্দর ইয়ানবুর অবস্থানও এই প্রণালির কাছাকাছি। গত সপ্তাহে ইয়ানবু বন্দরে ড্রোন হামলা চালিয়েছিল হুথি গোষ্ঠী এবং তারা সেই হামলার দায়ও স্বীকার করেছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘কেপলার’ জানিয়েছে, ইয়ানবু বন্দরে ওই হামলার পর থেকে লোহিত সাগর দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের হার অনেকটাই কমে এসেছে।










