সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ এবং রিয়াদ অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে ইরাক থেকে উৎক্ষেপিত বেশ কয়েকটি ড্রোন সফলভাবে প্রতিহত ও ধ্বংস করেছে দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। সোমবার (২৭ জুলাই) সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
প্রকাশিত বিবৃতিতে জানানো হয়, গত কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ড্রোনগুলো নির্দিষ্ট পেট্রোলিয়াম লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছানোর আগেই আকাশপথে সেগুলোকে সফলভাবে ভূপাতিত করা হয়। রিয়াদের সরাসরি অভিযোগ, এই হামলার চেষ্টাগুলো সম্পূর্ণভাবে ইরাকের ভূখণ্ড থেকে পরিচালিত হয়েছিল এবং এর পেছনে ‘ইরান-সমর্থিত সন্ত্রাসী মিলিশিয়া’ গোষ্ঠীগুলোর প্রত্যক্ষ হাত রয়েছে। এই ঘটনার কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করে দিয়েছে যে নিজেদের ভূখণ্ড, সার্বভৌমত্ব ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রক্ষায় উপযুক্ত সময়ে ও স্থানে এর জবাব দেওয়ার সম্পূর্ণ বৈধ অধিকার রাখে তারা। তবে সৌদি আরবের এই অভিযোগ ও বিবৃতির বিষয়ে ইরাক সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হয়নি।

আরও
আঞ্চলিক নিরাপত্তার এই উত্তপ্ত ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সরাসরি সামরিক লড়াই কিছুটা কমে আসার কথা জানা যাচ্ছিল। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, টানা দুই সপ্তাহ প্রতিদিনের আক্রমণের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকে ইরানের ওপর নতুন করে হামলা না চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। এর পরপরই রবিবার ইরানের এক সামরিক মুখপাত্র জানান, ওয়াশিংটন আগ্রাসন বন্ধ রাখায় তেহরানও আপাতত তাদের সামরিক অভিযান স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দুই পরাশক্তির সংঘাত কমার এই ইঙ্গিতের পরই সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় ইরাকভিত্তিক নতুন ড্রোন হামলার ঘটনা পুরো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তায় নতুন করে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।










