পশ্চিম আফ্রিকার দেশ বুরকিনা ফাসোয় ‘উগ্রপন্থী ইসলামের’ বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন দেশটির সামরিক শাসক ইব্রাহিম ত্রাওরে। সরকারের এই কঠোর অবস্থানের ফলে দেশটির প্রভাবশালী মুসলিম আলেম সমাজের সঙ্গে সামরিক জান্তার সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটেছে। সম্প্রতি বিতর্কিত একটি ধর্মীয় স্বাধীনতা আইন পাস এবং বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় ইমামকে গ্রেপ্তারের পর সরকার ও আলেমদের মধ্যকার এই সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে।
আলেমদের উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে সামরিক শাসক ত্রাওরে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, যাঁরা ইসলামের চরমপন্থী ব্যাখ্যা প্রচার করবেন, রাষ্ট্র তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। প্রয়োজনে এ ধরনের প্রচারণায় যুক্ত ইমামদের তাৎক্ষণিক বরখাস্ত করা হবে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২০ জুন দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন সংসদ সর্বসম্মতিক্রমে ‘ধর্মীয় স্বাধীনতা আইন’ পাস করে। নতুন এই আইনে শিশুদের জোরপূর্বক ভিক্ষাবৃত্তিতে বাধ্য করা এবং ধর্মীয় সংগঠনগুলোর আর্থিক অস্বচ্ছতার মতো কাজের জন্য কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। সরকার এই পদক্ষেপকে দেশের ধর্মনিরপেক্ষতা রক্ষার উদ্যোগ বলে দাবি করলেও সমালোচকদের মতে, এটি মূলত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নিরঙ্কুশ রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার একটি সুকৌশল।
মূলত মে মাসের শেষের দিকে নতুন এই ধর্মীয় আইনের খসড়ার সমালোচনা করায় দেশের অন্যতম বিশিষ্ট সুন্নি আলেম ইমাম মোহাম্মদ ইসহাক কিন্দোকে গ্রেপ্তার করা হলে সরকারের সঙ্গে আলেম সমাজের উত্তেজনা চূড়ান্ত রূপ নেয়। এর আগে গত এপ্রিলে ইমাম মাহমুদ বারোকেও প্রায় একই ধরনের পরিস্থিতিতে আটক করেছিল নিরাপত্তা বাহিনী। পরে কিন্দোর মুক্তির দাবিতে সাধারণ মুসল্লিরা বিক্ষোভ শুরু করলে কর্তৃপক্ষ জনশৃঙ্খলা ভঙ্গের অজুহাতে রাজধানী ওয়াগাদুগুর সর্ববৃহৎ সুন্নি মসজিদটি বন্ধ করে দেয়। এমনকি কিন্দোর প্রায় ১০০ জন সমর্থককে আটক করে ‘নাগরিক প্রশিক্ষণের’ নামে সামরিক ক্যাম্পে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
আরও
দেশের ভেতরে আলেমদের ওপর কড়াকড়ি আরোপের পাশাপাশি বিদেশে ধর্মীয় শিক্ষার ওপরও কঠোর নজরদারি বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন ইব্রাহিম ত্রাওরে। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, বিদেশে ইসলামি বিষয়ে অধ্যয়নরত বুরকিনা ফাসোর শিক্ষার্থীদের অবিলম্বে দেশে ফিরে আসতে হবে, অন্যথায় তাঁদের নাগরিকত্ব বাতিল করা হতে পারে। এখন থেকে বিদেশে পড়তে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে পূর্বানুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ আরবের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের ভেতরে আলেমদের সঙ্গে এমন চরম উত্তেজনার মাঝেই ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করছে বুরকিনা ফাসো। সম্প্রতি দেশটিতে নিযুক্ত নতুন ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত সাইমন সেরুসিকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেছেন সামরিক শাসক ত্রাওরে।










