মালয়েশিয়ায় বিদেশি শ্রমিক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে, যা প্রবাসী ও নতুন গমনেচ্ছুদের জন্য এক নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। এখন থেকে ব্যক্তিভিত্তিক বা ‘কেস-বাই-কেস’ সুপারিশের মাধ্যমে কোনো শ্রমিকের কোটা অনুমোদন দেওয়া হবে না। নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়াটিকে ডিজিটাল পদ্ধতির আওতায় এনে ‘ফরেন ওয়ার্কার্স সেন্ট্রাল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’-এর ‘ই-কোটা’ মডিউলের মাধ্যমে পরিচালনা করা হবে।
সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ উপমন্ত্রী দাতুক সেরি আর. রামানান নতুন এই নীতিমালার বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি জানান, নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও বেশি স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিক করতেই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর ফলে তদবির বা ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যমে কোটা পাওয়ার কোনো সুযোগ আর থাকছে না। মালয়েশিয়ার মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গত ১ জুলাই থেকে বিদেশি শ্রমিক ব্যবস্থাপনার ‘ওয়ান-স্টপ সেন্টার’ সম্পূর্ণভাবে মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট ডিজিটাল সিস্টেমের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণও এই মন্ত্রণালয়ের হাতেই ন্যস্ত রয়েছে। ইতোমধ্যে ৫৪৮টি কোম্পানি থেকে ২২ হাজার ৪৭৬টি আবেদন জমা পড়েছে বলে জানানো হয়েছে।
তবে এই নতুন নিয়মে নিয়োগকর্তাদের জন্য একটি কঠোর শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে বিদেশি শ্রমিক নেওয়ার আগে স্থানীয় কর্মীদের অগ্রাধিকার দিতে হবে। এর জন্য নিয়োগকর্তাকে প্রথমে ‘মাইফিউচারজবস’ পোর্টালে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিতে হবে এবং কর্মসংস্থান আইনের ৬০কে ধারা অনুযায়ী অনুমোদন নিয়ে স্থানীয় কর্মী খোঁজার চেষ্টা করতে হবে। উপযুক্ত স্থানীয় কর্মী না পাওয়া গেলেই কেবল বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের আবেদন বিবেচনা করবে সরকার।
আরও
এদিকে নতুন আসা বিদেশি শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও প্রাথমিক সুবিধা নিশ্চিত করতে একটি ট্রানজিট সেন্টার স্থাপনের অনুমোদন দিয়েছে দেশটির মন্ত্রিসভা। মূলত কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের চাপ কমাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নিয়োগকর্তারা এসে শ্রমিকদের বুঝে নেওয়ার আগপর্যন্ত কর্মীরা এই কেন্দ্রেই নিরাপদে অবস্থান করবেন। কোটা অনুমোদন ও সার্বিক ব্যবস্থাপনার বিষয়টি মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে এলেও, বিদেশি শ্রমিকদের কাজের পারমিট বা পাস ইস্যুর চূড়ান্ত ক্ষমতা আগের মতোই দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হাতেই থাকছে।









