Long Popup (2)
সর্বশেষ

ওয়ার্ক পারমিট নিয়ে বাংলাদেশিদের সুখবর দিল আরব আমিরাত

Da38560f f412 468b a528 f5c7e3bd1d80ProbashircityWebPopupUpdate

সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) চাকরিরত এবং নতুন করে দেশটিতে যেতে ইচ্ছুক বাংলাদেশিদের জন্য বড় সুখবর নিয়ে এসেছে দেশটির সরকার। বিদেশি কর্মীদের নিয়োগ ও ভিসা প্রক্রিয়াকে আরও সহজ, দ্রুত ও আধুনিক রূপ দিতে ওয়ার্ক পারমিট বা কাজের অনুমতিপত্রে যুগান্তকারী সংস্কার আনা হয়েছে। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা প্রশাসনিক ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, নতুন এই উদ্যোগের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম বৃহৎ এই শ্রমবাজারে বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের প্রক্রিয়া আরও গতিশীল ও বাধামুক্ত হবে।

গত ৮ জুন আমিরাতের মানবসম্পদ ও আমিরাতীকরণ মন্ত্রণালয় ওয়ার্ক পারমিট ব্যবস্থার এই ঐতিহাসিক সংস্কারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়। মূলত কাগুজে নথিপত্রের ব্যবহার কমিয়ে শতভাগ ডিজিটাল সেবার পরিধি বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নতুন নিয়মে আবেদনকারীদের জন্য আগের মতো বিপুল পরিমাণ নথিপত্র বা কাগজের বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, বেশ কিছু ওয়ার্ক পারমিটের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় তথ্যের পরিমাণ ৭৫ থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৯৭ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনা হয়েছে। এখন থেকে একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমেই প্রায় সব ধরনের আবেদন ও অনুমোদন প্রক্রিয়া অনলাইনে অতি দ্রুত সম্পন্ন করা যাবে।

বর্তমানে আরব আমিরাতে বিদেশ থেকে নতুন কর্মী নিয়োগ, চাকরি পরিবর্তন, খণ্ডকালীন বা পার্ট-টাইম কাজ, ফ্রিল্যান্সিং, শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থান, গোল্ডেন ভিসাধারীদের কাজের অনুমতি এবং গৃহকর্মীসহ মোট ১৩ ধরনের ওয়ার্ক পারমিট চালু রয়েছে। এই সব কটি খাতেই নতুন ও সহজতর নিয়ম কার্যকর হবে। জনশক্তি রপ্তানি খাতের বিশ্লেষকদের মতে, সংযুক্ত আরব আমিরাত বরাবরই বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য। বর্তমানে দেশটির নির্মাণ, সেবা, পরিবহন, তথ্যপ্রযুক্তি ও গৃহস্থালি খাতে বিপুলসংখ্যক রেমিট্যান্স যোদ্ধা কাজ করছেন। ভিসা প্রক্রিয়ার এই আধুনিকায়ন বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, সহজতর এই প্রক্রিয়ার ফলে একদিকে যেমন দক্ষ ও অদক্ষ বাংলাদেশিদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের বিশাল সুযোগ তৈরি হবে, অন্যদিকে অবৈধ পথে বা দালালের মাধ্যমে যাওয়ার প্রবণতা কমে বৈধ উপায়ে কর্মী অভিবাসন উৎসাহিত হবে। আমিরাতের মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দাবি, তাদের এই যুগান্তকারী উদ্যোগ দেশটির বেসরকারি খাতের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রবাসী শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা করবে। একই সঙ্গে এটি একটি আন্তর্জাতিক মানের, স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক শ্রমবাজার গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, যার প্রত্যক্ষ সুফল পাবেন প্রবাসী বাংলাদেশিরাও।

আরও দেখুন

whatsappচ্যানেল ফলো করুনProbashircityWebPopupUpdate