দেশের মেধাবী ও দক্ষ জনশক্তিকে বিদেশে হারিয়ে ফেলার চিরচেনা ‘ব্রেন ড্রেন’ বা মেধা পাচারের ধারা থেকে বেরিয়ে আসতে চায় সরকার। এর বদলে প্রবাসীদের অর্জিত জ্ঞান, প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে দেশের ইকোসিস্টেমে যুক্ত করে ‘ব্রেন সার্কুলেশন’ বা মেধার সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করার নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গতকাল শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘বাণিজ্য, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক কূটনৈতিক কর্মপরিকল্পনা’ শীর্ষক এক সম্মেলনে অংশ নিয়ে এ পরিকল্পনার কথা জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি জানান, শুধু কায়িক শ্রমভিত্তিক বা ব্লু-কলার পেশা নয়, ভবিষ্যতে মেধাভিত্তিক বা হোয়াইট-কলার পেশায় নিযুক্ত প্রবাসীদেরও দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগে সরাসরি সম্পৃক্ত করার কার্যকর রূপরেখা তৈরি করা হচ্ছে।

শ্রমবাজারের বহুমুখীকরণ এবং দালালমুক্ত নিরাপদ অভিবাসন প্রক্রিয়ার ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা জানান, একটি সুশৃঙ্খল ও কার্যকর অভিবাসন নীতি প্রণয়ন বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমিয়ে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে দক্ষ কর্মী বিদেশে পাঠানোর পাশাপাশি নারী কর্মীদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি নারী হলেও বিদেশে শ্রমবাজারে তাঁদের অংশগ্রহণ বর্তমানে মাত্র ৫ থেকে ৭ শতাংশ, যা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধির সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শাসনামলে সূচিত বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাতকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভিশন অনুযায়ী আরও আধুনিক, স্বচ্ছ ও যুগোপযোগী করে গড়ে তোলা হচ্ছে।
আরও
অভিবাসন প্রক্রিয়াকে আরও সহজ, নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল করতে শিগগিরই ‘প্রবাসী কার্ড’ বা এক্সপ্যাট্রিয়ট কার্ড চালু করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এই কার্ডের মাধ্যমে বিদেশে যাওয়া প্রত্যেক বাংলাদেশির অবস্থান ও সার্বিক তথ্য সরকারি ব্যবস্থাপনায় সুরক্ষিত থাকবে। ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া সহজ করার পাশাপাশি প্রবাসীদের আর্থিক নথিপত্র ও শিক্ষাগত সনদ কিউআর কোডের মাধ্যমে সহজেই যাচাইযোগ্য করা হবে। এ ছাড়া তরুণদের দক্ষতা বাড়াতে সরকার এরই মধ্যে একটি নতুন ঋণ কর্মসূচি চালু করেছে। এর আওতায় তৃতীয় ভাষা শিক্ষা বা স্বল্পমেয়াদি কোনো কোর্সের জন্য বিদেশে যেতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীরা এখন থেকে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত সরকারি ঋণ সুবিধা পাবেন।
বৈশ্বিক শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে সরাসরি সংযুক্ত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছে সরকার। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সুনির্দিষ্ট চাহিদার ওপর ভিত্তি করে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে (টিভিইটি) যুগোপযোগী ও বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। বিদেশে গিয়ে কর্মীরা যেন তাঁদের সনদের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও যথাযথ মূল্যায়ন পান, সে জন্য বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে অবৈধ অভিবাসন রোধ করতে নির্দিষ্ট কোনো দেশকে ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহারের পথও কঠোরভাবে বন্ধ করার কথা জানানো হয়েছে। সমন্বিত সরকারি নীতি ও সঠিক নির্দেশনার মাধ্যমে বাংলাদেশি প্রবাসীরা বিশ্বজুড়ে আরও বেশি সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবেন বলে সরকার দৃঢ়ভাবে আশাবাদী।










