ওমানের সোহার সিটিতে একটি বন্ধ গাড়ির ভেতর থেকে মিজান নামের এক জনপ্রিয় ওমানপ্রবাসী তরুণ বাংলাদেশি ব্যবসায়ী ও টিকটকারের গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে দেশটির পুলিশ। আজ সোমবার বেলা ১১টার দিকে সোহারের লুলু হাইপারমার্কেটের পার্কিং এলাকা থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত মিজানের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর উপজেলার বিপি দাউদপুর গ্রামে। তিনি ওই এলাকার আবদুল জব্বারের তিন ছেলের মধ্যে সবার ছোট।
প্রবাস জীবনের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে বিভিন্ন ধরনের কনটেন্ট তৈরি করে ব্যাপক পরিচিতি অর্জন করেছিলেন মিজান। টিকটকে তাঁর অনুসারীর সংখ্যা ছিল ২০ লাখেরও বেশি। ওমানের সোহার ইউনিভার্সিটি সংলগ্ন এলাকায় তাঁর একটি আইসক্রিমের দোকান রয়েছে এবং ব্যবসা সূত্রে তিনি সেখানেই বসবাস করতেন।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার দুপুরের দিকে আইসক্রিম দোকানের প্রয়োজনীয় মালামাল কেনার কথা বলে বাসা থেকে বের হন মিজান। কিন্তু সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত হলেও তিনি আর বাসায় ফিরে আসেননি। দোকানের কর্মচারীরা ও স্বজনেরা একাধিকবার তাঁর মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর থেকেই বন্ধু ও পরিচিতজনেরা সম্ভাব্য সব জায়গায় মিজানের খোঁজ করতে থাকেন।
আরও
নিহত মিজানের বন্ধু ইকবাল জানান, আজ সোমবার সকালে সোহারের লুলু হাইপারমার্কেটের পার্কিং এলাকায় একটি গাড়ির দরজা ভেতর থেকে বন্ধ অবস্থায় দেখে স্থানীয় এক ওমানি নাগরিকের সন্দেহ হয়। পরে তিনি কাছে গিয়ে গাড়ির ভেতরে এক ব্যক্তির গলিত মরদেহ দেখতে পেয়ে দ্রুত পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে রয়্যাল ওমান পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে ফিঙ্গারপ্রিন্ট বা আঙুলের ছাপ পরীক্ষার মাধ্যমে মরদেহটি নিখোঁজ মিজানের বলে নিশ্চিত করে।
এদিকে মিজানের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর দেশে পৌঁছানোর পর তাঁর পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তিন ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট মিজান স্ত্রীসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। স্বজনেরা জানান, পারিবারিক জীবনে কিছুদিন আগেই তাঁদের একমাত্র শিশু সন্তান মারা যায়। সেই শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই মিজানের এই আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারটি এখন সম্পূর্ণ দিশেহারা।
ওমান পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে সোহার হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বন্ধ গাড়ির ভেতরে তৈরি হওয়া বিষাক্ত গ্যাসের প্রভাবে শ্বাসরোধে বা বিষক্রিয়াজনিত কারণে তাঁর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখে নিবিড় তদন্ত শুরু করেছে দেশটির পুলিশ।









