মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও সংঘাতের রেশ টেনে ধরতে একটি ঐতিহাসিক সমঝোতা চুক্তির পথে হাঁটার কথা ভাবছে সৌদি আরব। মূলত ইরান এবং ওই অঞ্চলের অন্যান্য আরব দেশগুলোকে নিয়ে একটি ‘অনাক্রমণ’ বা এক দেশ অপর দেশে হামলা না চালানোর প্রতিশ্রুতিমূলক চুক্তির পরিকল্পনা করছে রিয়াদ। গতকাল বৃহস্পতিবার (১৪ মে) যুক্তরাজ্যের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
সংশ্লিষ্ট দুজন পশ্চিমা কূটনীতিকের বরাতে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের বর্তমান সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতির অবসান হলে মধ্যপ্রাচ্যের সার্বিক পরিস্থিতি যেন নিয়ন্ত্রণে থাকে, সেই লক্ষ্যেই এমন চুক্তির কথা ভাবা হচ্ছে। সৌদি আরবের এই পরিকল্পনার মূল মডেল হিসেবে কাজ করছে ১৯৭০-এর দশকের ঐতিহাসিক ‘হেলসিংকি প্রক্রিয়া’। উল্লেখ্য, স্নায়ুযুদ্ধের চরম উত্তেজনার যুগে এই হেলসিংকি চুক্তির মাধ্যমেই ইউরোপে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছিল।
ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এক আরব কূটনীতিক জানান, ইরানসহ ওই অঞ্চলের অধিকাংশ আরব ও মুসলিম দেশ এমন একটি শান্তি চুক্তিকে ইতিবাচকভাবেই স্বাগত জানাবে। তবে চুক্তির চূড়ান্ত সফলতা নির্ভর করবে কোন কোন দেশ এতে যুক্ত হচ্ছে তার ওপর। তিনি সতর্ক করে বলেন, বর্তমান বাস্তবতায় ইসরায়েল ও ইরানকে একসঙ্গে কোনো চুক্তির টেবিলে বসানো একপ্রকার অসম্ভব। অথচ মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও যুদ্ধবিগ্রহের অন্যতম প্রধান কারণ ইসরায়েলকে এই প্রক্রিয়ার বাইরে রাখলেও এই চুক্তির কার্যকারিতা নিয়ে বড় ধরনের সংকট থেকে যাবে।
আরও
ভৌগোলিক বাস্তবতার কারণেই সৌদি আরব এমন চুক্তির বিষয়ে বেশি তাগিদ অনুভব করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। কারণ, শক্তিশালী প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ইরানের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করা রিয়াদের জন্য অত্যন্ত জরুরি। সৌদি আরবের এই উদ্যোগকে এরই মধ্যে জোরালো সমর্থন জানিয়েছে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ। তারা মনে করছে, ভবিষ্যতে আর কোনো হামলার শিকার হতে হবে না—ইরানকে এই নিশ্চয়তা দেওয়ার সবচেয়ে কার্যকর উপায় হতে পারে এ ধরনের একটি চুক্তি। তবে মধ্যপ্রাচ্যের আরেক প্রভাবশালী দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত শেষ পর্যন্ত এই চুক্তিতে যোগ দেবে কি না, তা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে কিছুটা সংশয় রয়েছে।










