টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর উপজেলায় এক মাদরাসাছাত্রীর আকস্মিক শারীরিক পরিবর্তনের ঘটনায় পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের দেওয়া তথ্যমতে, ১৪ বছর বয়সী ওই কিশোরীর নাম নূরমী আক্তার, যে শারীরিক পরিবর্তনের মাধ্যমে বর্তমানে ছেলে পরিচয়ে জীবনযাপন শুরু করেছে। মেয়ে থেকে ছেলেতে রূপান্তরিত হওয়ার পর পরিবার থেকে আদর করে তার নতুন নাম রাখা হয়েছে নূর নবী। চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে কিছুটা বিরল এই ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর থেকে এটি বর্তমানে পুরো টাঙ্গাইলজুড়েই মানুষের আলোচনার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মির্জাপুর উপজেলার জামুর্কী ইউনিয়নের আগধল্যা গ্রামের বাসিন্দা ও সৌদি প্রবাসী বাদশা খলিফার বড় সন্তান এই নূরমী আক্তার। সে স্থানীয় গুনটিয়া মহিলা মাদরাসার মাওলানা বিভাগের শিক্ষার্থী ছিল। পরিবারের দাবি, চলতি রমজান মাস থেকেই নূরমী নিজের শরীরে মেয়ে থেকে ছেলেতে রূপান্তরিত হওয়ার বিভিন্ন ধরনের পরিবর্তন অনুভব করতে শুরু করে। প্রথমদিকে বিষয়টি বুঝতে না পেরে গুরুত্ব দেওয়া না হলেও, গত বুধবার (১৩ মে) বিষয়টি তার নানির নজরে এলে পরিবারের অন্য সদস্যরাও তা চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত হন।
বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর পরিবার সানন্দেই তাকে ছেলে হিসেবে সামাজিক স্বীকৃতি দেয় এবং নাম পরিবর্তন করে ‘নূর নবী’ রাখা হয়। একই সঙ্গে তার মাথার চুল কেটে ছেলেদের মতো করে সাজানো হয় এবং ছেলেদের নতুন পোশাকও পরতে দেওয়া হয়। এই বিরল শারীরিক পরিবর্তনের ঘটনাটি চারদিকে ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই নূর নবীকে এক নজর দেখতে তাদের বাড়িতে ভিড় জমাচ্ছেন বিভিন্ন এলাকার শত শত মানুষ। স্থানীয়দের অনেকেই অবাক হয়ে জানান, আগে শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা খবরে এ ধরনের কথা শুনলেও বাস্তবে এমন পরিবর্তন তারা এই প্রথমবার স্বচক্ষে দেখলেন।
আরও
পরিবারের অন্য সদস্যদের মতো নূর নবীর চাচাও এই পরিবর্তনে দারুণ উচ্ছ্বসিত। গণমাধ্যমকে তিনি জানান, তাদের পরিবারে পরপর তিন মেয়ে সন্তান জন্ম নিয়েছিল; তাই নূরমীর এই ছেলে পরিচয়ে রূপান্তরের বিষয়টি তারা পরম আনন্দের সঙ্গেই গ্রহণ করেছেন। এই আকস্মিক শারীরিক পরিবর্তনের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে মির্জাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের কর্মকর্তা ডা. ফরিদুল ইসলাম জানান, সাধারণত জন্মগত হরমোনজনিত বা ক্রোমোজোমগত কোনো পরিবর্তনের কারণেই মানুষের শরীরে এ ধরনের রূপান্তরের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এটি অস্বাভাবিক কিছু না হলেও, স্থানীয়দের মাঝে বিষয়টি নিয়ে চরম বিস্ময় ও ব্যাপক কৌতূহল কাজ করছে।










