Long Popup (2)
সর্বশেষ

ভারতে মুসলিম ছাত্রীকে তুলে নিয়ে টানা দুদিন ধর্ষণ, ধর্ষক দীপু গ্রেপ্তার

ArrestProbashircityWebPopupUpdate

ভারতের উত্তর প্রদেশের কনৌজ জেলায় এক কিশোরী মাদরাসাছাত্রীকে অপহরণের পর পাশবিক নির্যাতনের এক শিউরে ওঠার মতো ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগী ওই কিশোরী নিজের স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে গত এক বছর ধরে জেলার ‘মাদরাসা মহসিনা’র হোস্টেলে থেকে পড়াশোনা করছিল। কিন্তু গত ৩ মে, শুক্রবার এক পরিকল্পিত ও ভয়াবহ ষড়যন্ত্রের শিকার হয় সে। মেয়েটির বাবা, সৈয়দপুর সাকরি গ্রামের বাসিন্দা শাকিল জানান, গত ৩ মে সকাল ৮টা নাগাদ খাবার কেনার জন্য হোস্টেল থেকে বের হওয়ার পর মেয়েটি আর ফিরে আসেনি। এরপর মাদরাসা কর্তৃপক্ষ অবিলম্বে পরিবারকে খবর দিলে তারা হন্যে হয়ে খোঁজ শুরু করেন।

ঘটনার লোমহর্ষক বর্ণনায় জানা যায়, ঘটনার দিন প্রধান অভিযুক্ত দীপু মেয়েটিকে এই বলে প্রলুব্ধ করে যে, তার মা তাকে ডাকছেন। সরল বিশ্বাসে মেয়েটি তার কাছে এগিয়ে গেলে, তাকে জোরপূর্বক টেনে শেখপুরার একটি বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে প্রায় দুদিন আটকে রাখা হয়। বন্দি অবস্থায় ওই কিশোরীর ওপর অকল্পনীয় নৃশংসতা চালানো হয়। অভিযুক্ত দীপু, তার ভাই সঞ্জীব এবং বন্ধু ধীরাজ কোল্ড ড্রিংকসের সঙ্গে মদ মিশিয়ে তাকে জোর করে পান করায় এবং এরপর তারা তাকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে। এমনকি তার পরিচয় মুছে ফেলার জঘন্য উদ্দেশ্যে অভিযুক্তরা জোর করে তার সিঁথিতে সিঁদুর এবং পায়ে আলতা বা মহাবর পরিয়ে একটি ভুয়া বিয়ের নাটকও সাজায়।

বন্দিদশার প্রায় দুদিন পর মঙ্গলবার বিকেলে ওই সাহসী মেয়েটি কোনোভাবে একটি মোবাইল ফোনের নাগাল পায় এবং তাৎক্ষণিকভাবে তার মাকে ফোন করে। চরম আতঙ্কিত কণ্ঠে সে মাকে জানায় যে, তাকে যেখানে বেঁধে রাখা হয়েছে, সেখান থেকে মাদরাসার জানালা দেখা যাচ্ছে। মেয়ের দেওয়া এই গুরুত্বপূর্ণ সূত্রের ওপর ভিত্তি করে পরিবার ও স্থানীয় লোকজন আশপাশের বাড়িগুলোতে ব্যাপক তল্লাশি শুরু করেন। একপর্যায়ে অভিযুক্ত দীপুর বাড়ির ছাদ থেকে মেয়েটিকে হাত-পা বাঁধা ও সম্পূর্ণ অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে ১১২ জরুরি হেল্পলাইনের মাধ্যমে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং গুরুতর অবস্থায় মেয়েটিকে জেলা হাসপাতালে ভর্তি করে।

হাসপাতালে চিকিৎসার পর জ্ঞান ফিরলে নির্যাতিতা কিশোরী পুলিশের কাছে তার ওপর ঘটে যাওয়া পুরো ঘটনার বিস্তারিত ও রোমহর্ষক বর্ণনা দেয়। কিশোরীর বয়ান ও পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনের কঠোর ধারায় এফআইআর দায়ের করেছে পুলিশ। উদ্ধারের সময় প্রধান অভিযুক্ত দীপু পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও, পুলিশ ইতিমধ্যে একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে। পলাতক প্রধান আসামিসহ বাকি অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

আরও দেখুন

whatsappচ্যানেল ফলো করুন

প্রবাস টাইমে লিখুন আপনিও। প্রবাসে বাংলাদেশি কমিউনিটির নানা আয়োজন, ঘটনা-দুর্ঘটনা, প্রবাসীদের সুযোগ-সুবিধা, সমস্যা-সম্ভাবনা, সাফল্য, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের খবর, ছবি ও ভিডিও আমাদের পাঠাতে পারেন [email protected] মেইলে।

ProbashircityWebPopupUpdate