চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার বক্তপুর ইউনিয়নে সম্পদের লোভে মোহাম্মদ শাহ জাহান নামের এক কুয়েতফেরত প্রবাসীকে কুপিয়ে ও শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা করেছেন তাঁরই স্ত্রী এবং সন্তানেরা। গত সোমবার (২৭ এপ্রিল) দিবাগত রাতে ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের নিজ বাড়িতে এই রোমহর্ষক ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের সহায়তায় অভিযুক্ত স্ত্রী কামরুন নাহার জুমুর এবং তাঁর ছেলে ও মেয়েকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় ভুক্তভোগীর বোন বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী মোহাম্মদ শাহ জাহান দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর কুয়েতে প্রবাসজীবন কাটিয়ে সম্প্রতি একেবারে দেশে ফেরেন। প্রবাসে হাড়ভাঙা খাটুনি দিয়ে উপার্জিত অর্থ দিয়ে তিনি স্ত্রীর নামে সঞ্চয়পত্র, স্বর্ণালংকার ও বসতবাড়িসহ উল্লেখযোগ্য সম্পদ গড়ে তুলেছিলেন। কিন্তু দেশে ফেরার পর তিনি নতুন করে ব্যবসা শুরু করার জন্য স্ত্রীর কাছে কিছু টাকা চাইলে এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে চরম বিরোধ দেখা দেয়। এই অর্থনৈতিক বিরোধ একপর্যায়ে তীব্র আকার ধারণ করলে তাঁরা একই বাড়িতে আলাদাভাবে বসবাস করতে শুরু করেন।
মামলার অভিযোগ ও স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী গত সোমবার রাতে স্ত্রী কামরুন নাহার জুমুর কৌশলে স্বামীর কক্ষে প্রবেশ করেন। এরপর ছেলে ও মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে একযোগে তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালান। এ সময় তাঁকে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টার পাশাপাশি ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। মৃত্যু নিশ্চিত ভেবে হামলাকারীরা তাঁকে ফেলে গেলে কিছুক্ষণ পর জ্ঞান ফিরে পেয়ে শাহ জাহান আত্মীয়স্বজনদের খবর দেন। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে নাজিরহাটের একটি হাসপাতালে এবং পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে সেখানে তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
আরও
এই নিষ্ঠুর হামলার ঘটনায় ভুক্তভোগীর বোন সুমি আক্তার বাদী হয়ে স্ত্রী, ছেলে ও মেয়েসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করে ফটিকছড়ি থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, আটকের পর অভিযুক্তরা প্রাথমিকভাবে ঘটনাটিকে ‘ডাকাতি’ হিসেবে সাজানোর চেষ্টা করলেও পুলিশের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে তাঁদের নিজেদের জড়িত থাকার প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসে। ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং ঘটনার বিষয়ে পুলিশের অধিকতর তদন্ত চলমান রয়েছে।









