মালয়েশিয়ায় ৫৬ জন বাংলাদেশিসহ মোট ৬২ জন অবৈধ অভিবাসীকে আটক করেছে দেশটির অভিবাসন বিভাগ। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সেলাঙ্গর রাজ্যের শাহ আলাম ও পুচং এলাকায় ‘অপস মাহির’ নামের এক বিশেষ সমন্বিত অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়। মূলত উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ শিল্প ও লজিস্টিক খাতে অবৈধ অভিবাসী শ্রমিকদের উপস্থিতি শনাক্ত ও দমনের লক্ষ্যেই এই সাঁড়াশি অভিযানটি পরিচালনা করা হয়।
অভিবাসন বিভাগের এনফোর্সমেন্ট ডিভিশনের উদ্যোগে পরিচালিত এই অভিযানে ৬৬ জন অভিবাসন কর্মকর্তা অংশ নেন। তাঁদের সহায়তায় মালয়েশিয়ার জাতীয় নিবন্ধন বিভাগের (জেপিএন) আরও ১২ জন কর্মকর্তা যুক্ত ছিলেন। অভিযান চলাকালে ওই এলাকার দুটি প্রতিষ্ঠানে আকস্মিক তল্লাশি চালানো হয় এবং সেখানে কর্মরত মোট ১১২ জন ব্যক্তির বৈধতার কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়। যাচাই শেষে ৬২ জনকে অবৈধ হিসেবে শনাক্ত করে আটক করা হয়, যাঁদের মধ্যে ৫৬ জন বাংলাদেশি, চারজন নেপালি, একজন ভারতীয় এবং একজন ইন্দোনেশীয় নাগরিক রয়েছেন।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, আটক ব্যক্তিরা অন্য কোম্পানির নামে ইস্যু করা অস্থায়ী কর্ম ভিসা (পিএলকেএস) ব্যবহার করে নিজেদের পরিচয় গোপন রাখছিলেন। তাঁরা তাঁদের মূল নিয়োগকর্তার পরিবর্তে সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করছিলেন, যা ভিসা অপব্যবহারের স্পষ্ট প্রমাণ। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বৈধ পরিচয়পত্র না থাকা, অনুমোদিত সময়সীমার চেয়ে বেশি সময় অবস্থান করা এবং পাসপোর্ট ও অনুমতির অপব্যবহারের মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ঘটনায় দায়িত্বজ্ঞানহীন নিয়োগকর্তাদের যোগসাজশ এবং বড় কোনো চক্র জড়িত থাকতে পারে বলে ধারণা করছে অভিবাসন বিভাগ, যার সন্ধানে অধিকতর তদন্ত চলছে।
আরও
আটক এই বিদেশি নাগরিকদের বর্তমানে সেমেনিহ ইমিগ্রেশন ডিপো ও কেএলআইএতে (KLIA) রাখা হয়েছে, যেখানে তাঁদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় নথিপত্র তৈরি ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। এ বিষয়ে মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, দেশের আইন লঙ্ঘনকারীদের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপস করা হবে না; অপরাধী বিদেশি শ্রমিক হোক কিংবা নিয়োগকর্তা। দেশের সার্বভৌমত্ব ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।









