আটলান্টিক মহাসাগরের বুকে ডুবে যাওয়া ঐতিহাসিক যাত্রীবাহী জাহাজ টাইটানিকের এক জীবিত যাত্রীর লাইফ জ্যাকেট বিপুল দামে নিলামে বিক্রি হয়েছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) ইংল্যান্ডের ডেভাইজেসে আয়োজিত এক নিলামে লরা মেবেল ফ্রাঙ্কাতেলি নামের ওই প্রথম শ্রেণির যাত্রীর ব্যবহৃত লাইফ জ্যাকেটটি ৬ লাখ ৭০ হাজার পাউন্ডে (প্রায় ৯ লাখ ৬ হাজার ডলার) কিনে নেন অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি। জ্যাকেটটিতে লরা এবং তাঁর সঙ্গে একই লাইফবোটে থাকা অন্য জীবিত যাত্রীদের স্বাক্ষরও রয়েছে। নিলামকারী প্রতিষ্ঠান শুরুতে জ্যাকেটটির দাম আড়াই থেকে সাড়ে তিন লাখ পাউন্ডের মধ্যে ধারণা করলেও চূড়ান্ত নিলামে তা প্রত্যাশাকেও ছাড়িয়ে যায়।

পশ্চিম ইংল্যান্ডের ডেভাইজেসে ‘হেনরি অলড্রিজ অ্যান্ড সন’ নামের একটি নিলামকারী প্রতিষ্ঠান টাইটানিকের স্মারক বিক্রির এই বিশেষ আয়োজন করে। একই নিলামে টাইটানিকের একটি লাইফবোটের সিট কুশন বা বসার গদি ৩ লাখ ৯০ হাজার পাউন্ডে (৫ লাখ ২৭ হাজার ডলার) বিক্রি হয়েছে, যা কিনে নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের দুটি টাইটানিক জাদুঘরের মালিক। নিলামকারী অ্যান্ড্রু অলড্রিজ জানান, রেকর্ড সৃষ্টিকারী এই দামগুলো প্রমাণ করে যে টাইটানিকের বিয়োগান্তক গল্পের প্রতি মানুষের আগ্রহ আজও কতটা প্রবল। একই সঙ্গে এটি সেই সব নিহত যাত্রী ও ক্রুদের প্রতি এক গভীর সম্মান প্রদর্শন, যাঁদের জীবনকাহিনি এই স্মারকগুলোর মাধ্যমে অমর হয়ে আছে।
আরও


নিলামে বিক্রি হওয়া লাইফ জ্যাকেটটির মালিক লরা ফ্রাঙ্কাতেলি ছিলেন টাইটানিকের প্রথম শ্রেণির একজন যাত্রী। তিনি সেই অভিশপ্ত যাত্রায় তাঁর নিয়োগকর্তা ও বিখ্যাত ফ্যাশন ডিজাইনার লুসি ডাফ গর্ডন এবং তাঁর স্বামী কসমো ডাফ গর্ডনের সঙ্গে ভ্রমণ করছিলেন। তাঁরা তিনজনই টাইটানিকের ১ নম্বর লাইফবোটে চড়ে প্রাণে বেঁচে ফেরেন। ৪০ জন যাত্রীর ধারণক্ষমতা থাকলেও ওই লাইফবোটটি মাত্র ১২ জন নিয়ে সাগরে ভাসানো হয়েছিল। বরফশীতল পানিতে হাবুডুবু খাওয়া অন্য ডুবন্ত মানুষদের উদ্ধার না করার কারণে সে সময় এই ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়।
বিশ্বের সবচেয়ে বিলাসবহুল এবং ‘ডুবে যাওয়া অসম্ভব’ বলে প্রচারিত টাইটানিক ১৯১২ সালের ১৫ এপ্রিল প্রথম যাত্রায় নিউফাউন্ডল্যান্ড উপকূলে বরফখণ্ডের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে তলিয়ে যায়। ওই দুর্ঘটনায় জাহাজের প্রায় ২ হাজার ২০০ যাত্রীর মধ্যে দেড় হাজারেরই প্রাণহানি ঘটে। তবে টাইটানিকের স্মারকের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ দামে বিক্রির বিশ্বরেকর্ডটি এখনো আরএমএস কার্পেথিয়া জাহাজের ক্যাপ্টেনের একটি সোনার পকেট ঘড়ির দখলে। টাইটানিকের সাত শতাধিক যাত্রীকে উদ্ধারকারী ওই জাহাজের ক্যাপ্টেনের ঘড়িটি ২০২৪ সালে ১৫ লাখ ৬০ হাজার পাউন্ডে বিক্রি হয়েছিল।










