উন্নত জীবনের আশায় প্রায় সাত লাখ টাকা খরচ করে মালদ্বীপে পাড়ি জমিয়েছিলেন এক বাংলাদেশি। কিন্তু দালালের ভয়ংকর প্রতারণায় তাঁর সেই স্বপ্ন মুহূর্তেই রূপ নিয়েছে দুঃস্বপ্নে। ভালো চাকরি ও লোভনীয় বেতনের প্রতিশ্রুতি পেয়ে সেখানে গেলেও বাস্তবে কোনো কাজ জোটেনি তাঁর। উল্টো থাকা-খাওয়ার তীব্র সংকটে পড়ে মাত্র ১৯ দিনের মাথায় খালি হাতে দেশে ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছেন তিনি।
ভুক্তভোগী ওই প্রবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মালদ্বীপে পৌঁছানোর পর তিনি দেখতে পান দালালের আশ্বাসের সঙ্গে বাস্তবের কোনো মিল নেই। সেখানে তাঁর জন্য নির্ধারিত কোনো কাজ বা বাসস্থানের ব্যবস্থা ছিল না। ফলে প্রবাসের মাটিতে তাঁকে চরম মানবেতর অবস্থায় দিন পার করতে হয়েছে। দেশে ফিরে চরম হতাশা ও কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমি এখন কোন মুখে বাড়ি ফিরব? এতগুলো ধারের টাকা কীভাবে শোধ করব?’
মালদ্বীপে এমন অমানবিক পরিস্থিতির শিকার কেবল এই একজনই নন, বরং সেখানে অবস্থানরত বহু বাংলাদেশি প্রবাসীর অবস্থাই প্রায় অভিন্ন বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, একটি সংঘবদ্ধ ও অসাধু দালাল চক্র দীর্ঘদিন ধরে দেশের সাধারণ ও নিরীহ মানুষদের সঙ্গে এমন জঘন্য প্রতারণা করে আসছে। চক্রটির ফাঁদে পা দিয়ে প্রবাসে গিয়ে প্রতিনিয়তই নিঃস্ব হচ্ছেন মানুষ। কাজ না পেয়ে এবং ন্যূনতম খাবারের অভাবে অনেকেই সেখানে চরম দুর্দশায় দিন কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন।
আরও
এমন পরিস্থিতিতে প্রবাসীদের অধিকার রক্ষায় মালদ্বীপে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাঁরা অবিলম্বে এই অসাধু দালাল চক্রের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি প্রতারণার শিকার হয়ে সর্বস্বান্ত হওয়া প্রবাসীদের দেশে ফেরানোসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ারও আহ্বান জানানো হয়েছে। সচেতন মহলের মতে, সরকারি পর্যায়ে যথাযথ নজরদারি ও কঠোর আইনি উদ্যোগ নিশ্চিত করা গেলে এ ধরনের প্রতারণা অনেকাংশেই রোধ করা সম্ভব।











